kalerkantho

বুধবার । ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ । ৫ মাঘ ১৪২৩। ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮।


প্রভাবশালীরা অধরা, তদন্তে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা!

রেজোয়ান বিশ্বাস   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



প্রভাবশালীরা অধরা, তদন্তে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা!

ব্যাংকের এটিএম বুথে জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দেশি-বিদেশি প্রভাবশালী ব্যবসায়ীসহ শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা করা হলেও প্রভাবশালী কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। উল্টো তাঁদের কেউ কেউ তদন্তে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

ওই জালিয়াতির হোতা ইউক্রেনীয় বংশোদ্ভূত জার্মান শজেপ্যান মাজুরেক পিওতরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই শতাধিক ব্যক্তির তালিকা তৈরি করে তাঁদের নজরে রাখছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পিওতর সম্প্রতি গোয়েন্দা পুলিশের পাশাপাশি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ওই সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামসহ জালিয়াতির বিষয়ে তথ্য দেন। এটিএম বুথে জালিয়াতির ঘটনায় পিওতর ছাড়াও সিটি ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা ও দুই ব্যবসায়ীকে শুধু গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডিবি সূত্রের দাবি, তদন্তে যাঁদের নাম এসেছে তাঁদের বেশির ভাগই দেশি-বিদেশি রাঘব বোয়াল। ফলে তালিকাভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা মামলার তদন্ত ও তদারক কর্মকর্তাকে নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, এটিএম জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীকে ধরার চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু তিনি উল্টো ফোনে তাঁকে বদলি করার হুমকি দেওয়াসহ তদন্তে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালান। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, সব কিছু মিলিয়ে এই মামলাটি একটি জটিল মামলা। পিওতরকে তিন দফা রিমান্ডে নিয়ে এরই মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তার তথ্য যাচাই-বাছাই করতে সময় লাগছে। বিশেষ করে পিওতরের তথ্যে অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী আর্থাৎ রাঘব বোয়ালের নাম পাওয়া গেছে। তালিকাভুক্তদের সম্পর্কে একেবারে নিশ্চিত হয়ে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, পিওতরসহ অন্যদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে যেসব পুলিশ সদস্যের নাম এসেছে তা যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, পিওতর আদালতে বলেছেন, গুলশান থানার পুলিশ কর্মকর্তা (সাবেক পরিদর্শক তদন্ত) ফিরোজ কবির তাঁকে সহযোগিতা করে অনেক আর্থিক সুবিধাসহ একটি দামি গাড়িও নিয়েছেন। এ ছাড়া গুলশানের খান ট্রাভেলসের পরিচালক তৌহিদ খান এবং তাঁর সহযোগী আবু জাফর তাঁকে এটিএম জালিয়াতিতে সহযোগিতা করে আর্থিক সুবিধা নেন তাঁর কাছ থেকে। জবানবন্দিতে পিওতর আরো বলেন, বিদেশি বেশ কয়েকজন বন্ধুসহ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ফরিদ নাবির, মো. ফারুকসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত বলে তিনি বিভিন্ন সময়ে জানতে পারেন।

এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশে শুধু এটিএম কার্ড জালিয়াতির মধ্যেই পিওতরচক্রের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিল না। দেশি-বিদেশি চক্রটি পয়েন্ট অব সেলস (পস) মেশিনেও বড় ধরনের জালিয়াতি করেছে।


মন্তব্য