kalerkantho


ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

সদস্য পদপ্রার্থীদের মধ্যেও সহিংসতা, কিশোরগঞ্জে একজন নিহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন স্থানে দলীয় ও বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের পাশাপাশি সদস্য পদপ্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরাও জড়িয়ে পড়ছে সহিংসতায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের সহিংসতার প্রভাব পড়ছে সদস্য পদপ্রার্থীদের মধ্যে।

আধিপত্যসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁরাও প্রতিপক্ষের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।

গত রবিবার রাতেও কিশোরগঞ্জের রশিদাবাদ ইউনিয়নে সদস্য পদপ্রার্থীদের দুই পক্ষের সহিংসতায় একজন নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম সোহেল মিয়া (৩৫)। তিনি সদস্য পদপ্রার্থী আব্দুস সালামের সমর্থক ছিলেন। নির্বাচনী মিছিল করাকে কেন্দ্র করে রাত ১১টার দিকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় তাঁকে। অভিযোগ রয়েছে, সদস্য পদপ্রার্থী জহিরের নেতৃত্বে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

এর আগে গত শুক্রবার ভোলার চরসামাইয়া ইউনিয়নে সদস্য পদপ্রার্থীর এক কর্মী নিহত হন। এ ধরনের সহিংসতায় শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও তা বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের তেমন কোনো তত্পরতা লক্ষ করা যায়নি।

ফলে নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, বিভিন্ন স্থানে বাড়ছে হামলা, সংঘর্ষ ও হতাহতের সংখ্যা।

এদিকে রবিবার রাত থেকে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, ময়মনসিংহ ও সাতক্ষীরায় সংঘর্ষসহ প্রতিপক্ষের নির্বাচনী অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বরিশালে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত জনতার মুখোমুখি অনুষ্ঠানে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় ৩১ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। বিস্তারিত আমাদের আঞ্চলিক অফিস, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে-কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নে মিছিল করাকে কেন্দ্র করে দুই সদস্য পদপ্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কৃষক সোহেল মিয়া নিহত হয়েছেন। রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সোহেল বেরুয়াইল গ্রামের মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে। ঘটনার পর থেকে প্রতিপক্ষ সদস্য পদপ্রার্থী জহির পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহিনন্দ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোহেল মিয়া ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী আব্দুস সালামের সমর্থক ছিলেন। রবিবার রাতে মোরগ প্রতীকের অন্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম জহিরের নির্বাচনী মিছিল হয়। এ সময় জহিরের সমর্থকদের সঙ্গে সালামের সমর্থকদের বাগিবতণ্ডা হয়। এর জের ধরেই সোহেলকে রাতে একা পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন ছুরিকাঘাত করে। তাঁকে গুরুতর অবস্থায় কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


মন্তব্য