kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


মনোনয়ন ‘বিক্রি’ হচ্ছে ঢাকায়

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মনোনয়ন ‘বিক্রি’ হচ্ছে ঢাকায়

চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার ২৬ ইউনিয়নের শতাধিক প্রার্থী এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। এর আগে তৃণমূলের ক্ষোভ এড়াতে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের মনোনয়নসংশ্লিষ্ট ও প্রভাশালী নেতারা ঢাকায় নামিদামি হোটেলে গিয়ে অবস্থান নেন। অভিযোগ উঠেছে, এ প্রভাবশালী নেতারাই সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ঢাকায় ডেকে মনোনয়ন নিয়ে দরদাম করছেন। এ সুযোগে তাঁদের হোটেলের বিলও মেটানো হচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের টাকায়।

জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত দরদামে চূড়ান্ত করা প্রার্থীদের নামই আজ মঙ্গলবার প্রকাশ করা হতে পারে। মনোনয়ন বাণিজ্য ঠেকাতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের শেষ চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে বলে দলের ত্যাগী নেতারা জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, তৃতীয় দফায় আগামী এপ্রিলে সুনামগঞ্জ সদর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ২৬টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, গত বুধবার সুনামগঞ্জ সদর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের প্রার্থীদের নাম জমা দেওয়া হয়েছে। দ্বিধাবিভক্ত দোয়ারাবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগে প্রার্থী নিয়ে আপত্তি থাকায় এখনো জমা দেওয়া হয়নি। তবে এ উপজেলার আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডের কাছে প্রার্থীদের তালিকা জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সূত্র মতে, কোন্দলে জর্জরিত জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি মতিউর রহমানের ‘অনুমোদিত’ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও উপজেলা কমিটিগুলোই তাদের পছন্দের প্রার্থী বাছাই করে প্রার্থী তালিকা জমা দিয়েছে। এ নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ বিরাজ করায় তিন উপজেলা কমিটির নেতারা ১০ দিন ধরে ঢাকায় রয়েছেন।

সূত্র মতে, জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন গত মঙ্গলবার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমানের বাসায় প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার বিষয়ে বৈঠকে বসেন। কিন্তু কোনো নিষ্পত্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। বৈঠকে দলের প্রতি নিবেদিত নয় এবং মাঠে জনপ্রিয়তা নেই এমন প্রার্থীদের বদলে সাধারণ সম্পাদক যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।

দলের নেতাকর্মী জানায়, দোয়ারাবাজার উপজেলার ৯ ইউনিয়নের মধ্যে আটটি ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। মাঠে তাদের জনপ্রিয়তা থাকলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের আহ্বায়ক ফরিদ আহমদ তারেক তাদের বাদ দিয়ে তাঁর পছন্দের প্রার্থীর ‘একক নাম’ জেলা কমিটির সভাপতি মতিউর রহমানের কাছে জমা দিয়েছেন। এ আহ্বায়ক কমিটির নেতারা সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঢাকায় ডেকে নেন।

একই পথে হাঁটছেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতারাও। সদরের ৯ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের ত্যাগী, জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে নিজেদের পছন্দের মাঠের অপরিচত প্রার্থীদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে তাঁদের মনোনয়নের জন্য একক নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঢাকায় অবস্থানরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চেয়ারম্যান প্রার্থী গত বৃহস্পতিবার টেলিফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের ঢাকায় এনে কৌশলে টাকা চাইছেন কয়েকজন নেতা। তাঁরা অভিজাত হোটেলে এসে বিল ছেড়ে দিচ্ছেন আমাদের ওপর। আমরা মনোনয়নের আশায় মুখ বুজে তাঁদের এ অত্যাচার সহ্য করছি। ’

দোয়ারাবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের আহ্বায়ক ফরিদ আহমদ তারেক বলেন, ‘কেউ আমাদের কমিটিকে না মানলেও আমাদের কিছু যায় আসে না। আমরা ইউনিয়ন পর্যায় থেকে ভোটাভুটি করে একক প্রার্থীর নাম জেলা সভাপতির কাছে দিয়েছি। কোনো স্বজনপ্রীতি করা হয়নি, কারো কাছ থেকে কোনো সুবিধাও নেওয়া হয়নি। ’

দোয়ারাবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আরেক অংশের আহ্বায়ক ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি আওয়ামী লীগের নামধারী কয়েকজন নেতা ঢাকায় বসে ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ডেকে নিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্য করছেন। আমরা তৃণমূল নেতাকর্মীর মতামতের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও জনপ্রিয় প্রার্থীদের নাম পাঠিয়েছি। ’

ঢাকায় অবস্থানরত সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম বলেন, ‘আমরা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঢাকায় আছি। ইউনিয়ন থেকে পাওয়া তালিকা বাছাই করে জেলা সভাপতির কাছ চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা জমা দিয়েছি। কারো কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন, ‘আমি জেলা সভাপতি মহোদয়কে লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে দলের ত্যাগী ও জনপ্রিয় প্রার্থীদের নাম দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। আমাকে তাঁরা জানিয়েছেন, অনেক আগেই রেজ্যুলেশন করে প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমিও খবর পাচ্ছি প্রার্থীদের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়া হচ্ছে। ’

এ ব্যাপারে মন্তব্য জানার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন ধরেননি।


মন্তব্য