kalerkantho


স্বাধীনতার মাসে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে ‘চেষ্টা’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



স্বাধীনতার মাসে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে ‘চেষ্টা’

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘চেষ্টা’ গত শুক্রবার পাঁচ বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা দেয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

মুক্তিযুদ্ধে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার শিকার হয়েছেন, শেষ জীবনে এসেও বিপন্ন জীবন যাপন করছেন পঁচাত্তরোর্ধ্ব এমন পাঁচ বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধাকে স্বাধীনতার মাসে সম্মাননা জানাল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘চেষ্টা’। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা ক্লাবের স্যামসন হলে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

যাঁদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয় তাঁরা হলেন হাওয়া খাতুন (৮০), আয়শা খাতুন (৭৫), শরফুলি বেগম, শাহেরা খাতুন ও ময়মুন। তাঁরা ময়মনসিংহের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দা। অনুষ্ঠানে এ বীরাঙ্গনাদের পরবর্তী জীবন স্বাচ্ছন্দ্যময় করার জন্যও উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী, সংসদ সদস্য কাজী রোজী, গাজী গোলাম দস্তগীর বীরপ্রতীক, মাহজাবীন মোর্শেদ, সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল এম. হারুন-অর-রশীদ বীরপ্রতীক, চেষ্টার উপদেষ্টা ড. মিজানুর রহমান ও  সভাপতি সেলিনা বেগম।

অনুষ্ঠানে আ ক ম মোজাম্মেল হক চেষ্টার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার আশা প্রকাশ করেন। মেহের আফরোজ চুমকী চেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। বয়স ও রোগে-শোকে ন্যূজ হয়ে যাওয়া বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থা দেখে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে অনেকেই চোখে পানি ধরে রাখতে পারেনি। অনুষ্ঠানে বীরকন্যাদের একজন দর্শকদের সামনে একাত্তরে নিজের অপমানিত হওয়ার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লে এক বেদনাবিধুর দৃশ্যের অবতারণা হয়। অনুষ্ঠানে বীরকন্যাদের হাতে চেষ্টার পক্ষ থেকে এককালীন কিছু অর্থ তুলে দেওয়া হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লায়লা নাজনীন হারুন বলেন, বীরকন্যাদের স্বাবলম্বী করে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন অনুসারে গাভি ও সেলাই মেশিন কিনে দেওয়া হবে। যাঁদের ঘরবসতি নেই তাঁদের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে।


মন্তব্য