kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


সাক্ষাৎকার

রিজার্ভের অর্থ চুরির বিষয়টি ফলো করছি

রেজাউল করিম রেজা   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রিজার্ভের অর্থ চুরির বিষয়টি ফলো করছি

ইকবাল মাহমুদ, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে কাজে যোগ দিয়েছেন ইকবাল মাহমুদ। গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে যোগদানের কিছুক্ষণ পর তিনি মুখোমুখি হন কালের কণ্ঠের। বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ হয় তাঁর সঙ্গে। এতে দুদক নিয়ে তাঁর মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উঠে আসে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনার নেপথ্যে দুর্নীতি থেকে থাকলে তা অনুসন্ধান নিয়ে দুদকের পরিকল্পনার কথাও জানালেন তিনি। তিনি বলেছেন, যেখানেই দুর্নীতির গন্ধ পাওয়া যাবে সেখানেই থাকবে দুদক। দুদকের মধ্যে কোনো দুর্নীতি থাকলে তাও মুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।   

দুদকের অতীত মূল্যায়ন করতে গিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের গত তিন বছরের কথা আমি বলতে পারব না। সরকারের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ ছিল না ওই সময়ে। এই সময়টা আমি দেশের বাইরে ছিলাম। নিশ্চয় ভালো কাজ হয়েছে। তবে আরো কাজ করার স্কোপ (সুযোগ) রয়েছে। দুদকের অতীত সম্পর্কে এটিই আমার মূল্যায়ন। ’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভবিষ্যতেরটা ভবিষ্যৎই বলে দেবে। তবে আমি তাত্ক্ষণিকভাবে বলতে চাই, দুর্নীতি প্রতিরোধই হবে আমার মূল ফোকাস। এ ছাড়া নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেই দিকে ভালোভাবে খেয়াল রাখা এবং যারা অপরাধ বা দুর্নীতি করতে চায়, তাদের জন্য অনেক শক্ত ও কঠিন অবস্থান নেওয়া হবে। এটিই আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। ’

তিনি বলেন, ‘কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে আমার মূলমন্ত্র হবে চারটি। প্রথমত, আমি যেটা করব সেটি সবাই জানবে, অর্থাৎ কাজের মধ্যে স্বচ্ছতা। দ্বিতীয়ত, আমার কাজের জবাবদিহিতা, তৃতীয়ত, আইনের গণ্ডির মধ্যে থেকে সব কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং চতুর্থত, কমিশনের কাজে সবার নিশ্চিত অংশগ্রহণ, বিশেষ করে গণমাধ্যমের। ’

কমিশনের কোনো বিষয়ে রাজনৈতিক কোনো প্রভাব, চাপ বা নির্দেশনা থাকলে কেমন ভূমিকা পালন করবেন? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দুদক আইন অনুযায়ী কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়। তাই রাজনীতির কোনো প্রশ্নই এখানে আসার সুযোগ নেই। সব চাপের ঊর্ধ্বে উঠে এই প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে কাজ করবে। ’

সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের চাপের মুখে পদ্মা সেতু প্রকল্পকেন্দ্রিক দুর্নীতির মামলা করেছিল দুদক। তাঁর বক্তব্য কিভাবে দেখছেন? জবাবে দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই বিষয়ে উনাকেই প্রশ্ন করেন। উনি ভালো বলতে পারবেন। ’ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে রিজার্ভের অর্থ চুরির মধ্যে কোনো দুর্নীতি আছে কি না, এ বিষয়ে দুদক কি কোনো অনুসন্ধান করবে? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো জানি না বাংলাদেশ ব্যাংকে কী হয়েছে, তবে আমরা সংবাদপত্রের মাধ্যমে যতটুকু জানতে পেরেছি, কতগুলো টিম কাজ করছে সেখানে। নিশ্চয় তাদের ফাইন্ডিংস আসবে। সেই ফাইন্ডিংস আমরা ফলো করছি। দুদকের সংশ্লিষ্ট কমিশনারকে বলেছি, এই বিষয়টি ফলো করতে। কিভাবে কী হয়েছে উনি এটি দেখবেন, যেহেতু উনি অনুসন্ধান নিয়ে কাজ করেন। দুর্নীতির গন্ধ যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই কমিশন থাকবে। ’

দুর্নীতিগ্রস্ত ও দুর্নীতিপরায়ণদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান তাঁর অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ‘যারা দুর্নীতিগ্রস্ত, তাদের প্রতি আমার অবস্থান হবে ভেরি ভেরি হার্ড। ’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা জানেন, এই প্রতিষ্ঠানেরর বিশ্বাসযোগ্যতা কতটুকু। লোকমুখে নানা কথাই আমি শুনেছি এ নিয়ে। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব এই প্রতিষ্ঠানকে জনগণের আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে আনতে। ’

গতকাল যোগদানের পরপরই কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে পৃথক দুটি মতবিনিময় সভা করেন ইকবাল মাহমুদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন দুদক কমিশনার ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন নতুন কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম। সভায় দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বলেন, দুদক হবে দুর্নীতিবাজদের জন্য আতঙ্কের নাম। আর যারা দুর্নীতি করে না, তাদের জন্য দুদক হবে বটবৃক্ষ। দুদককে জনগণের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হবে।


মন্তব্য