kalerkantho

26th march banner

বিসিসির প্যানেল মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগ

স্বজন-যুবক-চাকুরে সবাই বয়স্ক ভাতার আওতায়

বরিশাল অফিস   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বরিশাল টিঅ্যান্ডটি অফিসের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী কাজী রুহুল আমিন। বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের এ বাসিন্দার জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখ দেওয়া ১৯৬৭ সালের পহেলা জানুয়ারি। আর সে অনুসারে তাঁর বর্তমান বয়স ৪৯ বছর। কিন্তু বিসিসির প্যানেল মেয়র ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোশাররেফ হোসেন খান বাদশার ভগ্নিপতি হওয়ায় তিনি এই বয়সেই বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন। তাও আবার সরকারি চাকরিরত অবস্থায়ই। কাজী রুহুল আমিনকে ২০১১ সালের জুন মাস থেকে বয়স্ক ভাতা দেওয়া হচ্ছে। বরিশাল শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের তাঁর বয়স্ক ভাতার বই নম্বর ৪২৮৬/১। আর সিঅ্যান্ডবি রোডের সোনালী ব্যাংকের ১১০০১৩৫৯-৫ নম্বর হিসাব শাখা থেকে দীর্ঘদিন ধরেই বয়স্ক ভাতার অর্থ তুলে নিচ্ছেন।

বরিশাল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আ. রাজ্জাক সিকদারের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসারে বয়স ৫০ ছাড়িয়েছে (জন্ম ০১-০৫-১৯৬৫)। কিন্তু বিসিসির প্যানেল মেয়র ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোশাররেফ হোসেন খান বাদশা তাঁর এই আত্মীয়র (১৩-০৫-১৯৪৫ জন্ম) ভুয়া একটি জন্মসনদ তৈরি করে বয়স্ক ভাতার বই (বই নম্বর ৯৬০৫) করে দিয়েছেন। সরকারি চাকরিজীবী হয়েও রাজ্জাক সিকদার ২০১৩ সালের জুন মাস থেকে বয়স্ক ভাতা তুলছেন সিএনবি রোডের সোনালী ব্যাংকের ১১০০২১১০-২ হিসাব নম্বর থেকে। কেবল তাঁরা দুজনই নয়, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোট ১০ জন সরকারি চাকরিজীবী বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন।

আর সরকারি চাকরিজীবীদের এমন বয়স্ক ভাতা প্রদান করা বিধিবহির্ভূত উল্লেখ করে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর প্যানেল মেয়র মোশাররেফ হোসেন খান বাদশার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে গত রবিবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিন সিকদার। তিনি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন ১০ জন সরকারি চাকরিজীবীসহ তিনজন মৃত ব্যক্তি, ধনী ও আর্থিকভাবে সচ্ছল দুজন, ওয়ার্ডের বাসিন্দা নয় এ রকম ২৬ জন ও ৫০ বছরের নিচে এ রকম ৩২ জনকেসহ মোট ৭৩ জনকে অবৈধভাবে বয়স্ক ভাতা প্রদান করা হয়েছে। শাহিন সিকদার বলেন, কাউন্সিলর মোশাররেফ হোসেন খান বাদশা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করে ৭৩টি অবৈধ বয়স্ক ভাতা করেছেন।


মন্তব্য