kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


শিশুর পেটে ছুরিকাঘাত

মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে বিথী নিরাপত্তাহীন পরিবার

১১ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে বিথী নিরাপত্তাহীন পরিবার

‘শাহজাহান এসেছিল ছুরি হাতে, আমার স্বামীকে মারতে। তাকে না পেয়ে হঠাৎ করেই এক প্রতিবেশীর কোলে থাকা আমার ১৭ মাসের মেয়ে বিথীকে কেড়ে নেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিথীর এক হাত ধরে শূন্যে ঝুলিয়ে পেটের মধ্যে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়। ছুরিটি ওর পেট দিয়ে ঢুকে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এ অবস্থায়ই বিথীকে ছুড়ে ফেলে শাহজাহান চলে যায়। ’ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে এভাবেই রবিবারের সেই নারকীয় বীভৎস ঘটনাটির বর্ণনা দিচ্ছিলেন বিথীর মা বিউটি বেগম। নান্দাইলে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সংঘটিত এ ঘটনাটি ভুলতে পারছেন না তিনি। এখনো ক্ষণে ক্ষণে শিউরে উঠছেন। গালে শুকিয়ে যাওয়া কান্নার রেখা। উদভ্রান্ত দৃষ্টিতে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছেন। এই বুঝি কেউ আবার এলো তাঁর মেয়েকে মারতে। এদিকে ডাক্তাররা বলছেন শিশুটি বেঁচে গেলেও তার অবস্থা এখনো শঙ্কামুক্ত নয়।

গতকাল সোমবার ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ও সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. শাহ আলম তালুকদার সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে শিশুটি বেঁচে গেলেও এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। ছুরির আঘাতে তার অন্ত্রের কয়েক জায়গায় ছিদ্র হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাকস্থলীও। চার-পাঁচ দিন না গেলে কিছুই বলা যাবে না। সে এখন হাসপাতালের শিশু বিভাগের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রয়েছে। মাঝে মাঝে জ্ঞান ফিরলেও তাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে।

এদিকে বিথীর জ্ঞান ফিরে আসায় এলাকার মসজিদ ও উপশনালয়ে প্রার্থনা করেছে গ্রামবাসী। আর ঘরবাড়ি তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে শাহজাহান ও তার পরিবার। এ ঘটনায় রবিবার রাতেই অভিযুক্ত শাহজাহান ব্যাপারিসহ ১১ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি মামলা করেছেন বিথীর বাবা দ্বীন ইসলাম ধীরু। তিনি জানান, ‘ব্যবসার শেয়ার দেওয়ার কথা বলে শাহজাহান প্রায় পাঁচ বছর আগে তাঁর পৈতৃক জমিজমা বিক্রি করিয়ে প্রায় ১৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর থেকেই সে লাপাত্তা। টাকা ফেরত চাইতে গেলে সে প্রাণনাশের ভয় দেখাত। এখন মামলা করেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ’

নান্দাইল থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, গত রাতে নান্দাইলসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। শাহজাহানকে ধরতে মোবাইল ট্র্যাকিংসহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে শিশুটির মা-বাবাকে সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।

নান্দাইল পৌরসভার দক্ষিণ চণ্ডীপাশা এলাকায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ছিল দ্বীন ইসলাম ও তাঁর ফুপাতো ভাই শাহজাহানের। তাঁদের পারিবারিক বিরোধেই রবিবার সকালে বিথীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। ছুরিবিদ্ধ বিথীকে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাত্ক্ষণিক ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখানে রবিবার দুপুরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছুরিটি বের করা হয়।


মন্তব্য