kalerkantho


সুন্দরবনে বিদ্যুৎ প্রকল্প ১৫ মের মধ্যে বন্ধ না হলে বড় আন্দোলন

বাগেরহাট প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আগামী ১৫ মের মধ্যে সুন্দরবনে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করতে সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। এ সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাতিল না হলে দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকামুখী লংমার্চ, অবস্থান কর্মসূচি, ঘেরাও, হরতাল, অবরোধসহ বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিটি।

গতকাল রবিবার সুন্দরবন অভিমুখী ‘জনযাত্রা’র সমাপনী সমাবেশে বাগেরহাটের কাটাখালীতে ‘সুন্দরবন ঘোষণায়’ এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। ঘোষণাপত্র পাঠ করেন জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

সমাবেশে বলা হয়, বিদ্যুৎ উত্পাদনের বহু বিকল্প আছে। সুন্দরবনের কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য সুন্দরবনকে বাঁচাতে কয়লাভিত্তিক ওই বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করতে হবে।

ঘোষণাপত্রে বলা হয়, দেশবাসীর প্রতিবাদ আর বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা উপেক্ষা করে সুন্দরবন হত্যার আয়োজন চলছে। মুক্তিযুদ্ধের এই দেশে কোনো অবস্থাতেই সুন্দরবন ধ্বংস করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় গণজাগরণের মাধ্যমে সুন্দরবন ধ্বংসকারী কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ উত্পাদন প্রকল্প বন্ধ করতে সরকারকে বাধ্য করা হবে।

লিখিত বক্তব্যে সরকারের উদ্দেশে আনু মুহাম্মদ বলেন, ভারতের এনটিপিসির সঙ্গে বাংলাদেশের পিডিবি যৌথভাবে বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের যে চুক্তি সই করেছে তা অসম, অস্বচ্ছ এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী। দেশের ওরিয়ন কম্পানিকেও সব ধরনের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে একই ধরনের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে মানুষ ও প্রকৃতির অপূরণীয় ক্ষতি ছাড়াও দেশের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হবে।

ঘোষণাপত্রে জানানো হয়, রামপালে বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ হলে ওই কেন্দ্র থেকে বছরে ৫২ হাজার টন বিষাক্ত সালফার ডাই-অক্সাইড, ৩০ হাজার টন নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, সাত লাখ ৫০ হাজার টন ফ্লাই অ্যাশ ও দুই লাখ টন বটন অ্যাশ উত্পাদিত হবে। এ ছাড়া পশুর নদী থেকে ঘণ্টায় ৯১৫০ ঘনমিটার হারে পানি প্রত্যাহার, তারপর বিপুল বেগে পানি আবার নদীতে নির্গমন হবে। ওই নির্গমনকৃত পানির তাপমাত্রা ও পানিতে দ্রবীভূত নানা বিষাক্ত উপাদান নদীর স্বাভাবিক পানির প্রবাহ, পানির প্লাবতা, পলিবহন ক্ষমতা, মত্স্য ও অন্যান্য উদ্ভিদের জীবনচক্র ইত্যাদিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। গোটা সুন্দরবনের জলজ বাস্তুসংস্থান ধ্বংস করবে।

ঘোষণাপত্রে আরো বলা হয়, সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে কয়লা পরিবহন, জাহাজ থেকে নির্গত তরল কঠিন বিষাক্ত বর্জ্য, জাহাজ নিঃসৃত তেল, শব্দ ও তীব্র আলো সুন্দরবনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট করবে। এর সঙ্গে ওরিয়ন গ্রুপের ৫৬৫ মেগাওয়াট এবং রামপালে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের আরো একটি ইউনিট স্থাপিত হলে দূষণ আরো ভয়াবহ আকার নেবে।

বাগেরহাটের রামপালে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ ও ওরিয়ন গ্রুপের বিদ্যুৎ উত্পাদন প্রকল্প বাতিল এবং জাতীয় কমিটির সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত ১০ মার্চ জাতীয় কমিটি ঢাকা থেকে সুন্দরবন অভিমুখে (১০ থেকে ১৩ মার্চ) এ ‘জনযাত্রা’ শুরু করে। গতকাল বিকেলে কাটাখালীতে ‘সুন্দরবন ঘোষণার’ মধ্য দিয়ে ঢাকা থেকে সুন্দরবন অভিমুখী জাতীয় কমিটির জনযাত্রা শেষ হয়েছে। সমাপনী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কমিটির বাগেরহাট শাখার আহ্বায়ক রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন কমিটির জেলা সদস্যসচিব ফররুখ হাসান জুয়েল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা বিমল বিশ্বাস, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশিদ ফিরোজ, গণসংহতির সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা নজরুল ইসলাম, মোশরেফা মিশু ও শুভ্রাংশু চক্রবর্তী প্রমুখ।


মন্তব্য