kalerkantho

সোমবার । ১৬ জানুয়ারি ২০১৭ । ৩ মাঘ ১৪২৩। ১৭ রবিউস সানি ১৪৩৮।


তেনেগা-পিডিবির বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পরামর্শক কমিটির সায়

আরিফুজ্জামান তুহিন   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মালয়েশিয়ার কম্পানি তেনেগা ন্যাশনাল বারহেডের সঙ্গে কয়লাচালিত এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রী পর‌্যায়ের পরামর্শক কমিটি। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে গতকাল রবিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এ বৈঠকে আরেকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র চায়না হুদিয়ান হংকং (সিএইচডিএইচকে) এর সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) পর‌্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, এ কেন্দ্রে দুই দেশের সরকার পর‌্যায়ের বিনিয়োগে বাংলাদেশের অন্তত ৫০ শতাংশ অংশিদারিত্ব থাকতে হবে। নয়তো বাংলাদেশ ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে না।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান এবং বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, বাংলাদেশে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে পরামর্শ দিতে অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে মন্ত্রী পর‌্যায়ের পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়ে আসছে এই কমিটি।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সমান অংশিদারত্বে একটি এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের জন্য সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশ। তেনেগা বারহেডের যৌথমূলধনী কম্পানি গঠন অনুমোদন করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় তেনেগার সঙ্গে পিডিবি যৌথমূলধনী কম্পানি করে একটি এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ করবে।

অন্যদিকে সিএইচডিএইচকের সঙ্গে বিদ্যুৎ প্রকল্পে পিডিবির অংশিদারত্ব ৪৯ শতাংশ। আর সিএইচডিএইচকের রয়েছে ৫১ শতাংশ। এ প্রকল্পে সিএইচডিএইচকের অংশিদারিত্ব বেশি থাকায় যৌথমূলধনী কম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদে তাদের প্রতিনিধি বেশি থাকবে। এ কারণে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সমান অংশিদারিত্ব বা ৫০ শতাংশ মালিকানার ভিত্তিতে যদি সিএইচডিএইচকে এখানে বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ করতে চায় তাহলে বাংলাদেশের তাতে সায় আছে। এ জন্যই বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে এ প্রস্তাবনাটি ফেরত পাঠানো হয়েছে সিএইচডিএইচকের সঙ্গে সমান মালিকানার ব্যাপারে আলাপ করার জন্য।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, রামপালে ভারতের সঙ্গে প্রথম একটি এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই প্রক্রিয়াতে প্রথমে দুই দেশের সরকার বিদ্যুৎ খাতে নিজেদের মধ্যে সহায়তা বৃদ্ধির জন্য একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে। পরবর্তী সময়ে দেশের সরকারি কম্পানির সঙ্গে পিডিবির এমওইউ হয়। পরবর্তী সময়ে ওই এমওইউ এর ভিত্তিতে একটি যৌথমূলধনী কম্পানি গঠন করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয় বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কম্পানি (বিআইএফপিএল)। যৌথ মূলধনী এ কম্পানিটি বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করে। এ দরপত্রে বিজয়ী হয় ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত কম্পানি ভেল (ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড)। শিগগিরই ভেলের সঙ্গে বিআইএফপিএলের কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি হবে।


মন্তব্য