kalerkantho


মালয়েশিয়ার শ্রমিক নেওয়া বন্ধ

দেশটির ক্ষমতাধরদের স্বার্থহানির শঙ্কা ছিল!

জামাল হোসেইন   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মালয়েশিয়া বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে এখনো কিছু জানায়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ। ফলে বিষয়টি নিয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কারো পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে বেসরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) নেতারা মনে করছেন, মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ চাপের কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের মতে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের পরিবারের কয়েক সদস্য বিদেশি কর্মী নিয়োগ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। ওই সদস্যরা দেশটির রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে জড়িত। সরকারিভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করা হলে তাঁদের ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় তাঁরা প্রথমে একটি ‘সিন্ডিকেট’ করে কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে সফল না হয়ে নিয়োগ বন্ধ করে দিতে উদ্যোগী হয় চক্রটি।

বায়রা সূত্রের দাবি, মালয়েশিয়াভিত্তিক কয়েকজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও তাঁদের এ দেশীয় সহযোগীরাও এ উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন। এর পাশাপাশি মালয়েশিয়ার গণমাধ্যমের ওপর প্রভাব থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত বেশ কিছু নাগরিকও বিষয়টির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। বাংলাদেশি বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ করা হলে তাঁদের ক্ষমতা খর্ব হওয়ার আশঙ্কা ছিল। একই সঙ্গে নিজ দেশ থেকে শ্রমিক না নিতে পারায় আর্থিকভাবে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন।

ফলে সরকারিভাবে কর্মী নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিলের জন্য গণমাধ্যমের দ্বারা মালয়েশিয়া সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখে ওই মহলটি। তিনটি পক্ষ যৌথভাবে দেশটিতে শ্রমিক আন্দোলনও শুরু করায়। আর বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশটির কর্তৃপক্ষও বিষয়টি বিবেচনায় নিতে বাধ্য হয়।

বায়রা নেতারা অবশ্য উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ব্যর্থতাকেও দায়ী করছেন।

জানতে চাইলে বায়রার মহাসচিব মনসুর আহমেদ কালাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এত বড় চুক্তির কারণে দেশের বিদেশ গমনেচ্ছু শ্রমিকদের মধ্যে আশার সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখে। তবে দেশি-বিদেশি একটি কুচক্রী মহলের চাপের কারণে আমরা বারবার আশাহত হচ্ছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো, ভারতীয় তামিলরা মালয়েশিয়ায় বেশ শক্তিশালী। তারা দেশটির গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে, যে কারণে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধের জন্য তারা বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। ’

অভ্যন্তরীণ চাপের কারণেই মালয়েশিয়ার সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানালেন বায়রার সভাপতি আবুল বাশার। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের কয়েকজন সদস্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সঙ্গে জড়িত। তাঁরা স্থানীয় রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে কাজে লাগিয়ে শ্রমিক নিয়োগপ্রক্রিয়া বন্ধ করতে সক্ষম হন। মালয়েশিয়ার বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সরকার তাঁদের দাবি মেনে নিয়েছে। তবে মালয়েশিয়ার সরকার যা করেছে, সেটা আমাদের জন্য দুঃখজনক। এটা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে। ’

যেকোনো সমঝোতা বা চুক্তির আগে দেশটিতে শ্রমিক নিয়োগের পরিবেশ আছে কি না তা যাছাই করা উচিত বলে মনে করেন বায়রার এই নেতা। তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করার আগে দেশটিতে শ্রমিক নিয়োগের পরিস্থিতি আছে কি না তা যাছাই করা উচিত ছিল। পাশাপাশি দেশটি যখন ১৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তি স্থগিত করে তখন তাদের কাছ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া উচিত ছিল। তবে সরকার তা করেনি। এ ধরনের খেলার কোনো মানে হয় না। ’

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম গতকাল রবিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই বিষয়ে আমরা এখনো কিছু জানি না। দেশটির গণমাধ্যমে যা প্রকাশিত হয়েছে, আমরা শুধু তা জানতে পেরেছি। তবে মালয়েশিয়ার সরকার এ ব্যাপারে আমাদের কিছুই জানায়নি। ’

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার ড. মোহাম্মেদ অসিমও কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি, তবে এ ব্যাপারে আমাদের সরকারপক্ষ থেকে কিছুই জানানো হয়নি। ’

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিতে এ দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করে মালয়েশিয়া।


মন্তব্য