kalerkantho


বরিশালে হোল্ডিং নম্বর

টাকা নিল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জানে না নগর সংস্থা

রফিকুল ইসলাম, বরিশাল   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বরিশাল নগর সংস্থার তালিকা অনুসারে নগরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আলী হোসেনের নিজস্ব কোনো হোল্ডিং নম্বর নেই। তাই তাঁকে চাপ দেওয়া হলো হোল্ডিং নম্বর করানোর জন্য।

একই সঙ্গে এ জন্য ফি বাবদ নেওয়া হলো এক হাজার টাকা। টাকা নেওয়ার রসিদে ১৪৪৭/১ নম্বরটিও বসিয়ে দেওয়া হলো। আর ওই হোল্ডিং নম্বরের ডিজিটাল প্লেট করার জন্য নেওয়া হলো আরো ২৫০ টাকা।

আলী হোসেনকে বলা হলো ১৫ দিনের মধ্যেই তিনি পেয়ে যাবেন ডিজিটাল হোল্ডিং নম্বর প্লেট। কিন্তু এক মাসের মধ্যেও প্লেট না পেয়ে গতকাল রবিবার তিনি খোঁজ নিতে আসেন নগর ভবনে। কিন্তু তাঁকে জানানো হলো এ রকম হোল্ডিং নম্বর করার জন্য নগর সংস্থার কোনো কর্মকর্তাই তাঁর এলাকায় যাননি। শুনে তো আলী হোসেনের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল।

এরপর আলী হোসেন নগরের বাড়ির কর নির্ধারক কর্মকর্তা মুশফিকুল আহসান আজমকে দেখালেন তাঁকে দেওয়া টাকার রসিদ। সেখানেই লেখা আছে বাড়ির নম্বর।

কিন্তু এই কর্মকর্তা তাঁকে জানালেন এই নম্বরটি ভুয়া। আর রসিদ দেখে এই কর্মকর্তা নিশ্চিত হলেন কাজটি আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রুরাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান করেছে। এই প্রতিষ্ঠানটিকে নগরের ৫০ হাজার বাড়িতে ডিজিটাল হোল্ডিং নম্বর প্লেট বসানোর কাজ পেয়েছে। কিন্তু তারা হোল্ডিং নম্বর দেওয়ার কথা বলেও টাকা নিচ্ছে, যা তারা করতে পারে না।

কিছুক্ষণ পর কাইনয়া এলাকার কালা খাঁর বাড়ির আরো তিনটি পরিবার আসে সিটি করপোরেশনে। তাদের অভিযোগ এক হাজার টাকা নিয়ে ভুয়া হোল্ডিং নম্বর দেওয়ার। কেবল এ কয়টি পরিবার নয় সিটি করপোরেশনের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, ওই প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ হাজারেরও বেশি পরিবারের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে নিয়েছে নতুন হোল্ডিং নম্বর করে দেওয়ার কথা বলে।

বরিশাল সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র আহসান হাবীব কামাল আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রুরাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নামের এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বরিশালের ৫০ হাজার হোল্ডিংয়ে ডিজিটাল নম্বর প্লেট বসানোর কাজ দেয়। প্রতিটি প্লেট বসানোর জন্য ২৫০ টাকা করে নেওয়ার কথা। এই টাকা বাড়ির মালিককেই দিতে হবে। আর ওই প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়ে গত জানুয়ারি মাসে বরিশালে এসে সিএন্ডবি রোডে খন্দকার লজে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়। প্রতিষ্ঠানটির বরিশালে এর আগে কোনো কার্যক্রম ছিল না। এমনকি প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধিত কি না তাও সিটি করপোরেশন ছাড়া আর কেউ বলতে পারছে না।

জানুয়ারি মাস থেকে কাজ শুরুর পর চলতি মাস পর্যন্ত শতভাগ বাড়ির মালিকের কাছ থেকে টাকা আদায় হয়েও গেছে। তবে বেশির ভাগ স্থানেই ডিজিটাল হোল্ডিং প্লেট দেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরিশাল সিটি করপোরেশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হোল্ডিং নম্বর দেওয়া বাবদ প্রায় ৫০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রুরাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির বিরুদ্ধে। ’ তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে খুলনায়ও একইভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রুরাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সুপারভাইজার শাহ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হোল্ডিং নম্বর করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া আমাদের ভুল হয়েছে। আমরা ওই টাকা ফেরত দিয়ে দেব। ’

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রণজিৎ দাস বলেন, ‘আমরা ওই প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ দিয়েছি তাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে এমনটি ভেবে। যদি তারা কাজের মধ্যে অনিয়ম করে তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর হোল্ডিং নম্বর করে দেওয়ার কথা বলে যাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে তাও ফেরত দিতে হবে। ’


মন্তব্য