বাগেরহাটে শিক্ষকের পিটুনিতে ছাত্র-335314 | খবর | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


বাগেরহাটে শিক্ষকের পিটুনিতে ছাত্র হাসপাতালে

বাগেরহাট প্রতিনিধি   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বাগেরহাটের কচুয়ায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে না পারায় এক ছাত্রকে ডাস্টার দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছেন শিক্ষক। জুবায়ের রহমান শেখ (১০) নামে পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রকে বিকেলে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে শুধু জুবায়েরই নয়, আরো ৮-১০ জন ছাত্রকেও চড়-থাপ্পড় মেরেছেন ইংরেজির শিক্ষক তুষার কুমার দাস। এ ঘটনার কথা তিনি স্বীকারও করেছেন।

আহত ছাত্র জুবায়ের রহমান শেখ জেলার কচুয়া উপজেলার সাংদিয়া গ্রামের মো. মিজানুর রহমান শেখের ছেলে। বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন জুবায়ের জানায়, সাংদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে গতকাল শনিবার দুপুর ১টার দিকে শিক্ষক তুষার কুমার দাস তাকে একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন। সে ওই প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে ডাস্টার দিয়ে তার মুখে এবং পিঠে কয়েকটি আঘাত করে। একপর্যায়ে সে স্কুলেই অসুস্থ হয়ে পড়ে।

জুবায়েরের মা জাকিয়া সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, ওই শিক্ষক তাঁর ছেলেকে বইয়ের বাইরে থেকে ইংরেজিতে একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে বলে। ছেলে ওই প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় তাকে ডাস্টার দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন শিক্ষক।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডা. মো. আব্দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, জুবায়েরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন এবং ফোলা জখম আছে।

এদিকে শিক্ষক তুষার কুমার দাস ছাত্রদের চড়-থাপ্পড় মারার কথা স্বীকার করে বলেন, ক্লাসে গিয়ে তিনি ছাত্রদের প্রশ্ন করে ছিলেন যে বাগেরহাটে কয়টি উপজেলা আছে। কিন্তু ছাত্ররা জবাব দিতে না পারায় তার মাথা গরম হয়ে যায়। এ সময় তিনি আট থেকে ১০ জন ছাত্রকে চড়-থাপ্পড় মেরেছেন। এর মধ্যে ওই ছাত্রটির একটু বেশি লেগে গেছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।

তুষার কুমার দাস আরো জানান, ওই ঘটনার পর তিনি জুবায়ের রহমানের বাড়িতে গিয়ে তার দাদি এবং মার কাছে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসিত কুমার দাস জানান, আজ রবিবার স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্যদের নিয়ে একটি সভা আহ্বান করা  হয়েছে। ওই সভার সিদ্ধান্ত মতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অশোক কুমার সমাদ্দার জানান, শিক্ষা অফিস থেকে একজন স্টাফকে ওই ছাত্রকে দেখতে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য