১০ কিমি দূরে গিয়ে গুলি এএসআই শামীম-335310 | খবর | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


কেবল অপারেটর আল-আমিনের পরিবার আতঙ্কে

১০ কিমি দূরে গিয়ে গুলি এএসআই শামীম রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রাজধানীর বংশাল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শামীম রেজা শুক্রবার সকালে তাঁর থানা এলাকাতেই দায়িত্বরত ছিলেন। তাঁর বাসা খিলগাঁওয়ের নন্দীপাড়ার মেরাদিয়ায়। পুরনো ঢাকার বংশাল, অর্থাৎ শামীম রেজার কর্মস্থল থেকে তাঁর বাসার দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। পুলিশ প্রবিধান অনুযায়ী, কোনো পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালনের সময় সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে পারবেন না। এ ছাড়া দায়িত্ব পালন শেষে তাঁর অস্ত্রটি থানার মালখানায় রেখে যেতে হবে। অফিসাররা নিজের জিম্মায়ও অস্ত্র রাখতে পারবেন। তবে ওই অস্ত্রের ব্যবহারসহ সব বিষয়ে তিনি এককভাবে দায়বদ্ধ থাকবেন এবং এ জন্য তাঁকে জবাবদিহি করতে হবে।

এসব বিধি-নিষেধের তোয়াক্কা না করেই এএসআই শামীম রেজা শুক্রবার দায়িত্ব পালনের সময় নিজ বাসায় যান। সেখানে ডিশের বকেয়া বিল চাওয়ায় কেবল অপারেটর প্রতিষ্ঠানের কর্মীকে নিজের পিস্তল দিয়ে গুলি করেন। পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে শামীম রেজার অন্যায়ভাবে কর্মস্থল ত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখন তাঁর বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারের বিষয়টি তদন্ত করছেন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা।

এদিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গতকাল আদালতের নির্দেশে শামীমকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে খিলগাঁও থানার পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগ ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শামীম দাবি করছেন, আল-আমিনের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় গুলি বের হয়ে গেছে। তবে আল-আমিন ও তাঁর স্বজনরা দাবি করছেন, বকেয়া বিল নিয়ে বাগিবতণ্ডার একপর্যায়ে এএসআই শামীম উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তখন তিনি আল-আমিনকে গুলি করেন। গুলিবিদ্ধ আল-আমিন এখন মেরাদিয়ায় তাঁর বাসায় আছেন।

ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) মারুফ হোসেন সরদার কালের কণ্ঠকে জানান, ধর্তব্য অপরাধের ঘটনায় মামলা এবং গ্রেপ্তার হওয়ার কারণে মামলার তদন্তই মূল বিষয়। তবে শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে লালবাগ বিভাগ। ওই কমিটির প্রধান লালবাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মুরাদ আলী।

পুলিশের তদন্ত কমিটির সদস্য এবং বংশাল থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, ‘শামীম রেজা ডিউটির সময় এলাকা ছেড়ে গেছেন এবং গুলি করেছেন। এটা বড় অপরাধ, যা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত অ্যাকশন নেওয়া হয়েছে।’

শামীম যা বলছেন : আমাদের আদালত প্রতিবেদক জানান, গতকাল হত্যাচেষ্টা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এএসআই শামীম রেজাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম প্রণব কুমার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

খিলগাঁও থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, গতকালই শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে শামীমের গুলিতেই আল-আমিন আহত হয়েছেন বলে প্রমাণ মিলেছে। এর পরও ব্যালাস্টিক পরীক্ষার জন্য অস্ত্র ও গুলি পাঠানো হয়েছে। এদিকে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এএসআই শামীম রেজা দাবি করেন, আল-আমিন ও তাঁর সহযোগীরাই তাঁর ওপর চড়াও হয়েছিল। এ সময় ধস্তাধস্তিতে তাঁর অস্ত্র থেকে গুলি বের হয়ে যায়। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বকেয়া ডিশ বিল নিয়ে বাগিবতণ্ডা ছাড়া গুলির ঘটনার আর কোনো কারণ আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আতঙ্কে আল-আমিনের পরিবার : স্বজনরা জানান, গুলিবিদ্ধ আল-আমিনকে শুক্রবার রাতেই মেরাদিয়ার বাসায় নেওয়া হয়েছে। নন্দীপাড়ার দক্ষিণগাঁয়ের অংশের ৬ নম্বর রোডের বাসায় পরিবার নিয়ে থাকেন ঢাকা ইস্ট কেবল ভিশনের কর্মচারী আল-আমিন। তাঁর গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ভয়ে আছে স্ত্রী আয়শা আক্তার বন্যা ও পাঁচ বছরের মেয়ে আরমিন। আল-আমিনের ভগ্নিপতি শহীদুল ইসলাম গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আল-আমিনের অবস্থা এখন একটু ভালো। তবে ভয়ের মধ্যে আছে সবাই। আইনের লোক হয়ে এএসআই শামীম যে কাজ করেছে তাতে মনে হয় তার খুঁটির জোর শক্ত। জানি না পরে আবার কী করে! তবে আমরা তার কঠিন বিচার চাই।’

ইস্ট কেবল ভিশনের আরেক কর্মচারী জাকির হোসেন বলেন, ‘এএসআই শামীম রেজা চার মাস ধরে ডিশ বিল পরিশোধ করেননি। টাকা চাইলে তিনি আমাদের ওপর রেগে গিয়ে লাইন কেটে দিতে বলেন। লাইন কেটে দিলে তাঁর কাছে থাকা পিস্তল দিয়ে আমাদের দিকে গুলি চালান। আমরা সাক্ষী আছি, আরো সাক্ষী আছে।’

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার খিলগাঁও নন্দীপাড়ার মেরাদিয়া ৫ নম্বর রোডের ৯ নম্বর বাড়িতে বকেয়া ডিশ বিল চাওয়ার কারণে ঢাকা ইস্ট কেবল ভিশনের কর্মচারী আল-আমিনকে (২৬) গুলি করেন বংশাল থানার এএসআই শামীম রেজা। এ সময় আল-আমিনের পিঠে গুলি লাগে।

মন্তব্য