kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হবিগঞ্জে একসঙ্গে নিখোঁজ চার শিশু, পরে খোঁজ মিলেছে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



হবিগঞ্জে আবার একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়া চার শিশুর খোঁজ পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গতকাল শনিবার ওই শিশুদের একজনের ফুফুর বাড়িতে তারা আছে বলে পুলিশ জানতে পারে।

শিশুগুলো শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র। তারা শুক্রবার বের হয়ে আর ফিরে আসেনি।

নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গতকাল বিকেলে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এক শিশুর বাবা। মাদ্রাসার একজন উপদেষ্টা দাবি করেন, চার শিশু পালিয়েছে। অন্যদিকে অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদ্রাসায় ছাত্রদের বেধড়ক পেটানো হয়। তাই ভয় পেয়ে এই চার শিশু পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারে।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদুর রহমান মনির শিশুদের খোঁজ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, আজহারুল ইসলাম নয়ন নামের এক শিশুর ফুফুর বাড়ি নবীগঞ্জের বালিয়াকান্দি গ্রামে শিশুগুলো আছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তাদের নিয়ে আসার জন্য পুলিশের একটি দল সেখানে পাঠানো হয়েছে।

নিখোঁজ এই চার শিশু উপজেলার সুতাংবাজার এলাকার বাছিরগঞ্জ পূর্ব নোয়াগাঁও হাজী সুরুজ আলী সুন্নিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র। তারা হলো বাহুবল উপজেলার পশ্চিম শাহাপুর (চারগাঁও নামে পরিচিত) গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা শাখা খেলাফত মজলিসের নেতা আহমদ রশিদ মনুর ছেলে তানভীর রশিদ রাফি (১৩), তাঁর ভাগিনা একই উপজেলার আব্দানারায়ণ গ্রামের আব্দুল আহাদের ছেলে ইমতিয়াজ আহমেদ (১২), শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার দরিয়াপুর গ্রামের আব্দুল আওয়ালের ছেলে সুহানুর রহমান (১১) ও নবীগঞ্জ উপজেলার সুজাপুর গ্রামের আব্দুল্লাহর ছেলে আজহারুল ইসলাম নয়ন (১২)।

গত শুক্রবার বিকেলে পাঞ্জাবি বানাতে দেওয়ার জন্য যাচ্ছে বলে এই চার শিশু মাদ্রাসা থেকে শায়েস্তাগঞ্জে আসে। রাতে আর তারা মাদ্রাসায় ফেরেনি। রাতেই মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মোজাক্কির হোসাইন মোবাইল ফোনে ছাত্রদের অভিভাবকদের বিষয়টি জানান। রাতে প্রত্যেক অভিভাবক সম্ভাব্য সব স্থানে শিশুদের খোঁজাখুঁজি করেন। শিশুদের সন্ধান না পেয়ে শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিখোঁজ শিশু রাফির বাবা বাহুবল উপজেলা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক আহমদ রশিদ মনু শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

খেলাফত মজলিস নেতা আহমদ রশিদ মনু বলেন, ‘আমার ছেলে রাফি, ভাগিনা ইমতিয়াজ ও তাদের সহপাঠী সুহানুর, নয়নসহ বেশ কয়েকটি শিশু ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে থেকে তারা হাফিজি পড়াশুনা করে। ’

সুহানুর রহমানের বাবা আব্দুল আওয়াল জানান, তিনি শুক্রবার বিকেলে শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকায় তাঁর ছেলেসহ চার শিশুর দেখা পান। ছেলে তাঁকে জানিয়েছিল পাঞ্জাবি কিনতে এসেছে। আবার মাদ্রাসায় চলে যাবে। পরে তিনি খবর পান তারা আর মাদ্রাসায় যায়নি।

মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি ও উপদেষ্টা ধন মিয়া জানান, শুক্রবার নিখোঁজ চার শিশুসহ ছয় শিশু মিলে পালানোর পরিকল্পনা করেছিল। চারজন পালালেও শাহিন ও রবিউল আওয়াল নামের দুজন যায়নি। তারাই অন্যদের পালানোর কথা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। শিশুরা বলেছে, তারা ঠিক করেছিল জামাকাপড় নিয়ে কেউ সিলেটে আবার কেউ ঢাকায় পালিয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য দুজন যায়নি।

পিটুনির ভয়ে পলায়ন : অভিভাবকরা বলছেন, এর আগেও বেধড়ক মারপিটের জন্য বিভিন্ন সময় শিশুরা মাদ্রাসা ছেড়ে পালিয়েছে। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি ও উপদেষ্টা ধন মিয়া জানান, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তাঁরা পাননি। মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ সেলিম আহমেদ জানান, প্রয়োজন হলে ছাত্রদের শাসন করা হয়। কিন্তু মারধর করা হয় না।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের চার শিশু নিখোঁজ হয়। পাঁচ দিন পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে ওই গ্রাম থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ইছাবিল এলাকায় মাটিচাপা অবস্থায় ওই শিশুদের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর আরো তিন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। এর মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।


মন্তব্য