হত্যার তদন্ত ঘিরেও রহস্য!-335307 | খবর | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


সাংবাদিক সজীবের মৃত্যু

হত্যার তদন্ত ঘিরেও রহস্য!

এস এম আজাদ   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



হত্যার তদন্ত ঘিরেও রহস্য!

কয়েকটি জাতীয় গণমাধ্যমের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রতিনিধি আওরঙ্গজেব সজীবের মৃত্যুর প্রায় তিন মাস পার হলেও রহস্যের কিনারা হয়নি। সাংবাদিক সজীব সদরঘাট থেকে চাঁদপুরগামী এমভি তাকওয়া লঞ্চ থেকে ধলেশ্বরী নদীতে পড়ে যান এবং তিন দিন পর নদী থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর লঞ্চে যাওয়া এবং নদীতে পড়ে যাওয়ার পুরো ঘটনাই রহস্যজনক। লাশ উদ্ধারের পর তাঁর মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডের সূত্রে আলিফা খাতুন অঞ্জনা ওরফে মুনিয়া (৩০) নামে এক তরুণীকে আটক করে র্যাব। তিনি নিজেকে সজীবের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করছেন। অঞ্জনার ভাষ্য, নদীতে পড়ে যাওয়ার আগের রাতে সজীব তাঁর কাছেই ছিলেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ময়নাতদন্তে প্রাথমিকভাবে সজীবের মৃত্যুর কারণ হিসেবে পানিতে ডুবে যাওয়াকেই উল্লেখ করা হয়েছে। সজীবের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম নিশি গত শুক্রবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার স্বামীর কেউ নেই চাঁদপুরে বা মুন্সীগঞ্জে। সে কেন ওই রুটের লঞ্চে উঠবে? মেয়েটি (দ্বিতীয় স্ত্রী পরিচয় দানকারী) বলছে, তিন বছর প্রেম করার পর ৪ তারিখে (৪ ডিসেম্বর) তারা বিয়ে করেছে। ঘটনার আগের রাতেও তারা একসঙ্গে ছিল। আমি তো এসব জানতাম না। কোনো সমস্যাও ছিল না। তবে কেন আমার স্বামী নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করবে? পুরো বিষয়টাই রহস্যজনক।’ নিশি আরো বলেন, ‘মেয়েটির কথাবার্তা রহস্যজনক হলেও পুলিশ তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে না। কোনো তদন্তই হয়নি। এত দিন হলো ফরেনসিক রিপোর্টও আসেনি। এমন কোনো বিষয় এখন পর্যন্ত দেখি না যে সে আত্মহত্যা করতে পারে। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হতে পারে। মেয়েটিকেও কেউ ব্যবহার করতে পারে।’

পুলিশ জানায়, সজীবের লাশ উদ্ধারের পর তাঁর স্ত্রী নিশি মুন্সীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সজীব নিখোঁজ থাকা অবস্থায় র্যাব তাঁর মোবাইল ফোনের রেকর্ডের সূত্রে মুনিয়া নামের এক তরুণীকে শনাক্ত করে। লাশ উদ্ধারের পর তাঁকে আটক করেন র‌্যাবের গোয়েন্দারা। ওই তরুণী নিজেকে সজীবের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে পরিচয় দেন। পরে তাঁকে সজীব হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায় মুন্সীগঞ্জ থানাপুলিশ। কথিত ওই স্ত্রীর প্রকৃত নাম আলিফা খাতুন অঞ্জনা। বগুড়ার মেয়ে অঞ্জনা মাস্টার্স পাস করেছেন। তিনি রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। সজীবের পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সহকর্মীরাও তাঁর মৃত্যুর আগে অঞ্জনার ব্যাপারে কিছুই জানত না।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও মুক্তারপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইউনুস আলী বলেন, ‘আমরা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেয়েছি। সেখানে পানিতে ডুবে মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। শরীরে আঘাত নেই। তবে ভিসেরা পরীক্ষায় পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে উল্লেখ আছে। তাই আমরা ভিসেরার জন্য অপেক্ষা করছি।’  জানতে চাইলে এসআই ইউনুস আলী বলেন, ‘সজীবের দ্বিতীয় স্ত্রী অঞ্জনা বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ কারাগারে বন্দি আছেন। তাঁকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে রিমান্ডে নেওয়া হবে। তবে তাঁর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু জানা যায়নি।’

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, অঞ্জনা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, বিয়ের পরে তিনি সজীবের প্রথম বিয়ে এবং প্রথম পক্ষে দুই ছেলেমেয়ে আছে বলে জেনেছেন। এটি নিয়ে তাঁদের মধ্যে বড় ধরনের ঝগড়াও হয়নি। অঞ্জনাও বলছেন, সজীবের আত্মহত্যার কারণ তাঁর জানা নেই।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর চাঁদপুরগামী এমভি তাকওয়া লঞ্চ থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন সাংবাদিক আওরঙ্গজেব সজীব (৪০)। তিনি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় ও ইনডিপেনডেন্ট টিভিসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রতিনিধি ছিলেন।

মন্তব্য