kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আইক্যাপ উদ্বোধনকালে রাষ্ট্রপতি

এইডস আক্রান্তদের প্রতি অবহেলা নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এইডসে আক্রান্তদের প্রতি অবহেলা কাম্য নয়, বরং সমাজের সবাইকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে সমান দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। যেকোনো ধরনের বৈষম্য-বঞ্চনা-কুসংস্কারের কবল থেকে তাদের মুক্ত রাখতে হবে।

এ ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ গতকাল শনিবার এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এইডস বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন-আইক্যাপ-১২-এর উদ্বোধনী ভাষণে এসব কথা বলেছেন।

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি বলেন, এইডসে আক্রান্তদের সমাজ আজও ভালো চোখে দেখে না। তারা নানাভাবে বঞ্চনার শিকার হয়। বিশেষ করে এইডসে আক্রান্ত বিধবা, শিশু ও দম্পতিদের দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হয়।

মো. আব্দুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশ এইডসের জন্য উচ্চ ঝুঁকির কোনো দেশ নয়। তবে এ রোগ ছড়ানোর মতো পরিস্থিতি রয়েছে। তাই বাংলাদেশ এইচআইভির সংক্রমণ রোধে সর্বোচ্চ সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে। কারণ আমাদের তরুণ প্রজন্মের বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিবছর শ্রম বিক্রির কাজে বিভিন্ন দেশে যাওয়া-আসা করে। যাদের মাধ্যমে এ রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। আমরা চাই না কোনো মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হোক।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আশা করছি এই আইক্যাপ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ পথনির্দেশনা বের করবেন যার মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে এইডস নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এইডস প্রতিরোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পার্টনারস ইন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (পিপিডি) বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই সম্মেলনের আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। আরো বক্তব্য দেন কম্বোডিয়ার মন্ত্রী ইয়াং মৌলি, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্যসচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, আইক্যাপের মহাসচিব জো থমাস, ইউনিসেফের প্রতিনিধি ফিলিপ কোরি এবং দক্ষিণ করিয়ার নাগরিক ও এএসএপির প্রতিনিধি মং হুয়ান।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে এইচআইভিতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা আট হাজার। যাদের সবাইকে চিকিত্সার আওতায় আনা হয়েছে। নতুন কারো খোঁজ পেলেই তাদের এআরটি (এন্টি রেট্রোভাইরাল থেরাপি) দেওয়া হয়। এইচআইভি প্রতিরোধে পদক্ষেপ তো আছেই।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশে এটাই যেকোনো আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের মধ্যে সর্ববৃহৎ আয়োজন। এতে বিভিন্ন পর্যায়ের ৫০টি বৈজ্ঞানিক সেশনসহ তিনটি প্ল্যানারি সেশন থাকবে।


মন্তব্য