kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চাঞ্চল্যকর ৯টি মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে

ওমর ফারুক   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



যশোরের মণিরামপুরের পাঁচকুড়ি গ্রামের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র সাহেদুর রহমান সাহেদ (৭) গান শুনতে খুব পছন্দ করত। কোথাও গানের আয়োজন আছে বলে জানতে পারলে ছুটে যেত সেখানে।

সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তাকে অপহরণ করে অভিভাবকের কাছ থেকে মুক্তিপণ নেওয়ার ফন্দি আঁটে তিন যুবক। কিন্তু শিশুটিকে লুকিয়ে রাখার জায়গা না পেয়ে ২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল গলা টিপে হত্যা করে ওই তিন দুর্বৃত্ত। পরে ইট বেঁধে লাশ তলিয়ে দেয় তারা নদীর পানিতে। কয়েক দিন পর লাশ পাওয়া গেলে থানায় মামলা হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে গণ্য করে যশোর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন মামলাটি সম্প্রতি খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, যশোরের ওই মামলাটিসহ ৯টি মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় গত ১৫ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি। এসবের মধ্যে ছয়টি হত্যা মামলা, দুটি আগ্নেয়াস্ত্র মামলা ও একটি বিস্ফোরক আইনের মামলা। প্রজ্ঞাপনে সই করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব এফ এম তৌহিদুল আলম।

জানা যায়, চাঞ্চল্যকর ওই মামলাগুলোর মধ্যে আছে ২০১৪ সালের ২৮ জুলাই নেত্রকোনার মদন থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলা। নেত্রকোনা দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন মামলাটি  ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া যশোরের ঝিকরগাছা থানায় ২০১৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর দায়ের করা একটি হত্যা মামলা পাঠানো হয়েছে খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে। এটি যশোরের দ্বিতীয় অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন ছিল। যশোর কোতোয়ালি থানায় ২০১৫ সালের ৩১ মে দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলা পাঠানো হয়েছে খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে। যশোরের চতুর্থ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে এর বিচার চলছিল। নাটোরের বাগাতিপাড়া থানায় ২০১২ সালের ১১ আগস্ট দায়ের করা একটি হত্যা মামলা রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে। রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর দায়ের করা একটি হত্যা মামলা পাঠানো হয়েছে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে। এই মামলাটি রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন ছিল।

অন্য মামলাগুলোর মধ্যে ২০১৫ সালের ২০ জুন সুনামগঞ্জের ছাতক থানায় অস্ত্র আইনে করা একটি মামলা সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে। এটি সুনামগঞ্জের দায়রা জজ আদালত ও স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন ছিল। ২০০৬ সালের ১৩ আগস্ট যশোরের অভয়নগর থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে করা একটি মামলা খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে। একই থানায় ২০০৬ সালের ১৩ আগস্ট একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।


মন্তব্য