kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


থামছে না মশার দাপট ওষুধের মান নিয়ে প্রশ্ন

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



থামছে না মশার দাপট ওষুধের মান নিয়ে প্রশ্ন

কোনো প্রচেষ্টাতেই থামছে না মশার দৌরাত্ম্য, বরং বাড়ছে দিনে দিনে। সিটি করপোরেশন প্রতিবছর ২০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করছে মশক নিয়ন্ত্রণে।

কিন্তু নগরবাসীর নিস্তার মিলছে না মশার অত্যাচার থেকে। রাজধানীর অলিগলি, বাসাবাড়ি সবর্ত্রই এখন মশার আনাগোনা। ড্রেন, নালা পরিষ্কারের পাশাপাশি ওয়ার্ড পর্যায়ে মশক নিধনে ওষুধ ছিটালেও কার্যকর ফল মিলছে না। বহুতল ভবনের শীর্ষেও থাকছে মশার উপস্থিতি। এ অবস্থায় ওষুধের মান নিয়ে প্রশ্ন সর্বত্র। সম্প্রতি মশার ওষুধের মান যাচাইয়ে পরীক্ষাগারে নমুনা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে রাজধানীর অনেক এলাকায় মশক নিধনের ন্যূনতম উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাজধানীর মুগদা এলাকায় সম্প্রতি মশক নিধন অভিযানের সময় মেয়র সাঈদ খোকনের উপস্থিতিতে ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘মশার অত্যাচারে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। সিটি করপোরেশন থেকে যে মশার ওষুধ ছিটানো হয় তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। এগুলো আমদানির সঙ্গে যারা জড়িত তারা সিন্ডিকেট করে রেখেছে। ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা দরকার। ’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক বলেন, ‘আমার এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানোর পরও মশার উপদ্রব অনেক বেশি। সাধারণ মানুষও মশা মারার কাজে ব্যবহূত ওষুধের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করছে। ’

ডিএসসিসির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক বলেন, ‘মশার ওষুধে আগে কিছুটা সমস্যা ছিল, পরে মেয়রের নির্দেশে যে ওষুধ এসেছে তা বেশি কার্যকর। ’

ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) খান মো. বিলাল বলেন, ‘মশক নিধন কার্যক্রমে আমরা ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। আশা করছি, খুব দ্রুত মশার সমস্যা কমে আসবে। মশার ওষুধের মান নিয়ে কোনো আপস করা হয় না। সম্প্রতি নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি, কোনো ত্রুটি থাকলে তা দূর হয়ে যাবে। ’

সূত্র জানায়, ডিএসসিসির ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে বাজেট ছিল ১১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজেট ধরা হয়েছে ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আর ডিএনসিসির ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে বাজেট ছিল ১০ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা হয়েছে ১৪ কোটি টাকা। এ বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হয় মশার ওষুধ আমদানি, ফগার মেশিন কেনা ও কর্মচারীদের খরচ হিসেবে। কচুরিপানা, আগাছা পরিষ্কারসহ কয়েকটি খাতেও ব্যয় হয় কিছু টাকা। মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের এ অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ বেশ পুরনো। মশক নিধনের জন্য বরাদ্দ টাকার সিংহভাগই সিন্ডিকেট হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিম্নমানের ওষুধ আমদানি করছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছে। মূলত দায়িত্বে অবহেলা ও দুর্নীতিতে মশার অত্যাচার বাড়ছে বলে মনে করে নগরবাসী।

সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে সপ্তাহে চার দিন দুই শিফটে ৩২ জন কর্মীর ফগার মেশিন নিয়ে কাজ করার কথা। ঢাকা মশক নিবারণী দপ্তরের ৭০০-এর বেশি শ্রমিক এ কাজে নিয়োজিত থাকার কথা। কিন্তু তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে কি না, তা তদারকি হচ্ছে না ঠিকমতো।

পশ্চিম ধানমণ্ডির আফসার উদ্দিন রোডের বাসিন্দা ইসমাত মোস্তারী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এলাকায় মশা জন্ম নেওয়ার মতো নোংরা পরিবেশ নেই, তবু ছয় তলার বাসায় মশার অত্যাচারে থাকা যাচ্ছে না। তবে এক বছরের মধ্যে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার দৃশ্যও চোখে পড়েনি। ’

মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের মসজিদ গলির গৃহিণী তানিয়া সুলতানা রোজী বলেন, ‘সাত তলাতেও মশার অত্যাচার। কয়েল জ্বালিয়ে অথবা স্প্রে করে রেহাই মেলে না। ’


মন্তব্য