বিষ দিয়ে হত্যা করা হয় বাবলুকে!-335265 | খবর | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


আড়ানীতে আ. লীগের মেয়র মনোনয়ন পাওয়া নেতার মৃত্যু

বিষ দিয়ে হত্যা করা হয় বাবলুকে!

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিষ দিয়ে হত্যা করা হয় বাবলুকে!

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বরের পৌরসভা নির্বাচনে রাজশাহীর আড়ানী পৌরসভায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন বাঘা উপজেলা শাখার সহসভপাতি বাবলু হোসেন। ৪ ডিসেম্বর তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগের দিন রাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরদিন আর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়নি, দুপুরেই মারা যান বাবলু।

তখন বাবলু হোসেন অতিরিক্ত মদ পান করে মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া যায়। অবশ্য তাঁর চেহলামের দিন পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আওয়ামী লীগের এই নেতাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রায় চার মাস পর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং একজনকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে এই অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বাঘা থানা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র কালের কণ্ঠকে বলেছে, বাবলু হোসেনকে তাঁর দলেরই একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে মদের সঙ্গে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে। নির্বাচনে বাবলু হোসেন যেন অংশ নিতে না পারেন, এ কারণে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনের আগের রাতেই তাঁকে বিষ পান করানো হয়।

উল্লেখ্য, গত বুধবার বাবলু হোসেনের ছেলে রিবন আহমেদ বাঘা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ওই দিনই লিটন হোসেন (২৭) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

আড়ানীর বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগের কর্মী লিটনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে পুলিশ আরো বলেছে, তার কাছ থেকে পাওয়া এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। লিটনকে গতকাল শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বাঘা থানার ওসি আলী মাহমুদ কালের কণ্ঠকে জানান, বিষক্রিয়ায় বাবলু হোসেনের মৃত্যু হয়েছে বলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বাবলুর ছেলে রিবন আহমেদ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।

ওসি আরো জানান, জিজ্ঞাসাবাদে লিটন হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। প্রয়োজনে তাকে আবারও রিমান্ডে নেওয়া হবে।

বাবলু হোসেনের ছেলে রিবন কালের কণ্ঠ’র কাছে দাবি করেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তাঁর বাবাকে বিষপানে হত্যার কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত লিটনকে ঘটনার আগে দুই-তিন বছর এলাকায় দেখা যায়নি। কিন্তু এলাকায় ফেরার পর তার চলাফেরা ছিল সন্দেহজনক। এ ছাড়া ওই দিন (৩ ডিসেম্বর) রাতে ঘটনাস্থলে লিটনকে দেখা গেছে। 

নিহত আওয়ামী লীগ নেতা বাবলু হোসেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের শ্যালক।

জানতে চাইলে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এত দিন বাবলুর পরিবার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় ছিল। সেই প্রতিবেদনে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এরপর মামলা করা হয়েছে। এখন পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।’

বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, দলের একাংশের নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় বাবলু হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে। এর সঙ্গে তাঁর প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা জড়িত থাকতে পারেন। মনোনয়ন চেয়ে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বাবলুকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলেও ওই সূত্রগুলো দাবি করছে।

 

বাবলু হোসেন মারা যাওয়ার পর ওই দিনই শেষ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয় আড়ানী পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্যানেল মেয়র-১ মুক্তার আলীকে। নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করেন।

মুক্তার আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাবলু হোসেনকে প্রতিপক্ষরা রাজনৈতিক হিংসাপরায়ণ হয়ে মদের সঙ্গে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে। এর সঠিক বিচার হওয়া উচিত।’

এক প্রশ্নের জবাবে মুক্তার আলী বলেন, ‘আমি দলের মনোনয়ন চাইলেও পরে সমঝোতার ভিত্তিতেই বাবলু হোসেনকে প্রার্থী মনোনীত করা হয়। আমি নির্বাচন করতেও চাইনি। ফলে দলীয় মনোনয়ন পান বাবলু। কিন্তু তিনি মারা যাওয়ার পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ইচ্ছায় আমি দলের মনোনয়ন পেয়েছি।’

মন্তব্য