kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জরুরি বিভাগে ডাক্তার নেই, অ্যাসিস্ট্যান্টের হাতে রোগীর মৃত্যু

বোয়ালখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উত্তেজনা, আটক ১

বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



গতকাল শুক্রবার দুপুর আড়াইটা। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসক নেই।

এ সময় অমল নাথ (৪০) নামে গুরুতর অসুস্থ এক রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তখন মেডিক্যাল সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট তাঁকে একটি ইনজেকশন পুশ করার উদ্যোগ নিলে স্বজনরা বাধা দিয়ে জানায়, রোগীর ডায়াবেটিস রয়েছে। কিন্তু বাধা উপেক্ষা করে ইনজেকশন পুশ করার সঙ্গে সঙ্গে অমল নাথ মারা যান।

ঘটনার পর রোগীর স্বজন ও স্থানীয় জনতার মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। তারা মেডিক্যাল সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট নারায়ণ দাশকে মারধর করার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পুলিশ নারায়ণকে আটক করে নিয়ে গেলে উত্তেজনা কমে আসে।

রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, উপজেলার আকুবদণ্ডী গ্রামের নাথপাড়া এলাকার অমল নাথ গতকাল দুপুর ২টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনরা দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। এ সময় জরুরি বিভাগের কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। জরুরি বিভাগের ‘চিকিৎসকের’ দায়িত্ব পালন করছিলেন বোয়ালখালী উপজেলার শাখপুরা কমিউনিটি সেন্টারের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট মেডিক্যাল অফিসার (স্যাকমো) নারায়ণ দাশ। তিনি রোগী অমলকে সুস্থ করে তুলতে একটি ইনজেকশন দিতে যান। কিন্তু অমল নিজে ও তাঁর স্ত্রী রানীবালা তাঁকে জানান, অমলের ডায়াবেটিস রয়েছে। তাই তাঁকে ইনজেকশন দেওয়া যাবে না; কিন্তু তাঁদের বারণ না শুনে রোগীর শরীরে ইনজেকশন পুশ করলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে মৃতের স্বজন ও স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে বোয়ালখালী থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নারায়ণ দাশকে আটক করে হেফাজতে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ‘বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। ’ চিকিৎসকের পরিবর্তে জরুরি বিভাগে একজন মেডিক্যাল সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট রোগীদের চিকিৎসা দিতে পারেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে আরএমও বলেন, কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (স্যাকমো) চিকিৎসা দিতে পারেন। এ সময় জরুরি বিভাগে চিকিৎসক ছিলেন না কেন—এ প্রশ্নে ডা. সৈয়দ ফারুক দাবি করেন, ওই সময় জরুরি বিভাগে চিকিৎসক ছিলেন। গতকাল দুপুরে জরুরি বিভাগের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা ডা. সাহারা মোশাররফ হাসপাতালের দোতলায় আরেকজন রোগী দেখছিলেন। তাই জরুরি বিভাগের ওই রোগীকে চিকিৎসা দিতে পারেননি। তবে এ প্রতিবেদক ঘটনার পরপরই হাসপাতালে যান এবং ওই সময় হাসপাতালের সাহারা মোশাররফ বা অন্য কোনো চিকিৎসককে দেখতে পাননি। ঘটনার সময়ও হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

ঘটনার ব্যাপারে যোগাযোগ করা হয় চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকীর সঙ্গে। বোয়ালখালীর আরএমও একজন স্যাকমো চিকিৎসা দিতে পারেন বলে জানালেও সিভিল সার্জন বলেন, স্যাকমো সরাসরি চিকিৎসা দিতে পারেন না। তিনি কেবল মেডিক্যাল অফিসারের পরামর্শ মোতাবেক চিকিৎসা দিতে পারেন। সিভিল সার্জন বলেন, ‘আমি ঘটনাটি জেনেছি। আমাকে জানানো হয়েছে ডা. সাহারা মোশাররফ হাসপাতালে ছিলেন। তার পরও প্রকৃত ঘটনা জানাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে (টিএইচও) নির্দেশ দিয়েছি আগামীকাল ১২টার মধ্যে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে। এ ছাড়া আগামীকাল আমি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করব। ’ উপজেলা সদরের বাইরে কমিউনিটি মেডিক্যাল সেন্টারের একজন স্যাকমোকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা যায় কি না—এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন বলেন, প্রয়োজন হলে আনা যায়। প্রসঙ্গত, চিকিৎসকরা অনুপস্থিত থেকে স্যাকমোদের দিয়ে চিকিৎসা করানোর অভিযোগ রয়েছে বোয়ালখালী হাসপাতালে।

ঘটনার ব্যাপারে স্থানীয় পৌপাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম জসিম বলেন, ‘মূলত সুগারশূন্য হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগী অমল অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। হাসপাতালে মেডিক্যাল অফিসার না থাকায় মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টের ভুল চিকিৎসায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ’

বোয়ালখালী থানার ওসি মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা জনতার উত্তেজনা প্রশমনের জন্য নারায়ণ দাশকে আটক করেছি। মৃতের পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য