kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভেস্তে গেল কারাগারে ফোন বুথ খোলার উদ্যোগ

ওমর ফারুক   

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দেশের কারাগারগুলোতে ফোন বুথ স্থাপনের উদ্যোগ ভেস্তে গেল। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে কারাগারে ফোন বুথ না খোলার পক্ষে মত দেওয়া হয়।

অথচ স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয়েছিল প্রতিটি কারাগারে ফোন বুথ স্থাপনের, যাতে কয়েদি ও আসামিরা ফোনে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারে। গত ১৬ জানুয়ারি কারা অধিদপ্তর সংবাদ সম্মেলন করে কারাগারে ফোন বুথ খোলার ঘোষণাও দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হলো না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারাগার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ৩১ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির দশম সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় কারাগারের ভেতরে কোনো ফোন বুথ স্থাপন করা যাবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া কোনো কারাবন্দি যাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারে সে জন্য নজরদারি বাড়াতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কারাগারকে দুর্নীতিমুক্ত ও সংশোধনাগার হিসেবে কিভাবে গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ হচ্ছে অনেক দিন ধরেই। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগার পরিদর্শন করে এসেছে। সেসব দেশের কারা ব্যবস্থাপনার ভালো দিকগুলো বাংলাদেশের কারাগারগুলোতে বাস্তবায়ন করা যায় কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন সময় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। সেসব বৈঠকে ঘুরে আসা প্রতিনিধিদল জানায়, তারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কারাগারে ফোন বুথ দেখেছে। একটি নিয়মের মধ্য দিয়ে বন্দিরা তাদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলে। কিন্তু ফোন সুবিধা থাকলে কাজটি সহজ হয়ে যায়। আর স্বজনদেরও কারাগারে এসে সময় নষ্ট করতে হয় না। এ কারণে কারাগারগুলোতে ফোন বুথ খোলার বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছর ৩ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় আইন মন্ত্রণালয়ে। সেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় কারাগারে ফোন বুথ খোলার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। গত ১৬ জানুয়ারি কারা অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মোহাম্মদ ফজলুল কবীর তখন জানিয়েছিলেন কারাবন্দিরা মোবাইলে কথা বলতে পারবে দ্রুতই।

কারা অধিদপ্তরে এ ঘোষণা দেওয়ার ১৫ দিন পর গত ৩১ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় ফোন বুথ না খোলার এবং মোবাইলে ফোনে যাতে কোনো বন্দি কথা বলতে না পারে। তাদের যুক্তি এতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। পরে মন্ত্রিসভা কমিটি সিদ্ধান্ত দেয় ফোন বুথ না খোলার জন্য।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ ও পুলিশবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওমর ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উদ্যোগটি গ্রহণযোগ্য ছিল, ভালো ছিল। না হওয়া দুঃখজনক। আমি বলব, এই প্রযুক্তির যুগে এমনভাবে একটি উদ্যোগ থেকে পিছিয়ে আসা দূরদর্শিতার অভাব। দক্ষতার অভাব। ’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর কারাগারে অনেক আগে থেকেই ফোনে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে বন্দিরা। কিন্তু আমাদের দেশে ফোনে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে বরং কিভাবে বন্ধ রাখা যায় সে জন্য মোবাইল জ্যামার বসানো হয়েছে। ’ তিনি বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কলকাতার কারাগারে ফোন বুথ রয়েছে। বন্দিরা সেখান থেকে অনুমতিক্রমে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে স্বজনদের সঙ্গে। ’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কারা কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্দিদের অনেক স্বজন দেখা করার জন্য প্রতিদিন কারাগারের সামনে ভিড় করে। কেউ কেউ অনেক দূর থেকে আসে। চাপের কারণে সবাইকে দেখা করার সুযোগ দেওয়া যায় না। ফোন বুথ খোলা হলে কারাগারে স্বজনদের দেখা করার চাপটা কমানো যেত। তাঁদের দুর্ভোগও কমত। ’


মন্তব্য