জলবায়ু ট্রাস্টের ফান্ডে বরাদ্দ কমছেই-334932 | খবর | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


জলবায়ু ট্রাস্টের ফান্ডে বরাদ্দ কমছেই

নিখিল ভদ্র   

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় গঠিত ট্রাস্ট ফান্ডে বরাদ্দের পরিমাণ প্রতিবছরই কমছে। ফলে সরকারের নেওয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় আগামী দিনে এ বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছে সংসদীয় কমিটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১০ জন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদসচিব, অর্থসচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, পরিকল্পনা কমিশনের একজন সদস্য ও দুজন বিশেষজ্ঞসহ মোট ১৭ জনকে নিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ড জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড পরিচালনা করছে। গত মাসে অনুষ্ঠিত পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ট্রাস্ট ফান্ডের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরা হয়েছে।

সংসদীয় কমিটির কাছে উত্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ফান্ডে এ পর্যন্ত তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকারের চলমান উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন কর্মসূচির অতিরিক্ত হিসেবে ট্রাস্ট ফান্ডের ওই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি অর্থবছরে মাত্র এক শ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৭০০ কোটি টাকা এবং ২০১০-১১ অর্থবছরে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

ট্রাস্টি বোর্ড ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারি ২৩৬টি প্রকল্পে দুই হাজার ৬৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। আর বেসরকারি ৬৩টি প্রকল্পের জন্য পিকেএসএফের অনুকূলে ২৫ কোটি ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। সরকারি ৬৩টি প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবজনিত কারণে বন্যা, খরা, সাইক্লোন, লবণাক্ততা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি জাতীয় প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা, ২০০৯ প্রণয়ন করে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম এই ধরনের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

কমিটি সূত্র জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা কার্যক্রমে বাংলাদেশ নেতৃত্বের স্থানে রয়েছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী উন্নত বিশ্বের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য তত্পরতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অর্থের কারণে গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।

মন্তব্য