এসি ল্যান্ডদের ডাবল কেবিন পিকআপ-334928 | খবর | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


এসি ল্যান্ডদের ডাবল কেবিন পিকআপ ভ্যান দেওয়া হচ্ছে

সংশ্লিষ্টরা বলছেন এতে কাজ দ্রুত হবে

আপেল মাহমুদ   

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ডাবল কেবিনের পিকআপ ভ্যান পেতে যাচ্ছেন ৪৯৪ জন সহকারী কমিশনার (এসি ল্যান্ড)। সরকারি জমি রক্ষা, তহশিল অফিস পরিদর্শন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা প্রভৃতি কাজের জন্য তাঁদের এসব গাড়ি দেওয়া হচ্ছে।

ভূমি মন্ত্রণালয় সহকারী কমিশনারদের ভ্যান সরবরাহের একটি প্রস্তাব গত বছরের শেষের দিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সম্প্রতি সেটি অনুমোদিত হয়েছে। এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি লাগবে।

সূত্র জানায়, ১৯৮৮ সালে রাজস্ব সার্কেলে এসি ল্যান্ড নিয়োগের পর থেকেই তাঁদের জন্য গাড়ি বরাদ্দের বিষয়ে কথা হচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সেটা হয়নি। কয়েক বছর আগে তাঁদের জন্য মোটরসাইকেল বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু এটা অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। এসি ল্যান্ডদের বেশির ভাগ এগুলো ব্যবহার করছেন না। আবার বেশকিছু এসি ল্যান্ড নারী, তাঁদের মোটরসাইকেল গ্যারেজেই থাকে।

কয়েকজন এসি ল্যান্ড জানান, ১৯৮৩ সালে এনাম কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী রাজস্ব কর্মকর্তাদের জন্য মোটরসাইকেল বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল। সেটা বাস্তবায়ন করা হয়েছে ২০০৬ সালের দিকে। কিন্তু বাস্তবে সেগুলো তেমন কাজে লাগছে না। তাঁরা বলেন, যে পদের জন্য এগুলো বরাদ্দ করার কথা বলা হয়েছিল সে পদের মান বেড়েছে। ১৯৮৮ সালে রাজস্ব কর্মকর্তার পদ এসি ল্যান্ড (সহকারী কমিশনার ভূমি) পদে উন্নীত হয়েছে। প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা এ পদে নিযুক্ত হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে অনেক নন-ক্যাডার কর্মকর্তারও সরকারি গাড়ি রয়েছে। তাই এসি ল্যান্ডদের জন্য গাড়ি বরাদ্দ দেওয়া উচিত, মোটরসাইকেল নয়।

ঢাকার ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারুক আহম্মেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এসি ল্যান্ডদের রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হয়। তাঁরা দুর্গম এলাকায় সরকারি জমি ব্যবস্থাপনা, তহশিল অফিস পরিদর্শন বা পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন করে থাকেন। তাঁদের ডাবল কেবিনের পিকআপ ভ্যান দেওয়া হলে কাজে অনেক গতি আসবে এবং সময় বাঁচবে।’

ঢাকা শহরের ১১টি এসি ল্যান্ড অফিসে সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কোনো সহকারী কমিশনার মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন না। উমেদার বা কর্মচারীরা সেগুলো অফিসের কাজে ব্যবহার করেন।

সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের শেষের দিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবে প্রতিটি পিকআপ ভ্যানের জন্য একজন চালক নিয়োগ করার কথাও বলা হয়।

সূত্র আরো জানায়, একেকটির মূল্য ৫০ লাখ টাকা ধরলে শুধু গাড়ি কেনার জন্যই প্রায় ২৫০ কোটি টাকা লাগবে। চালকের বেতন-ভাতা, জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ গাড়িপিছু ৬০ হাজার টাকা ধরলে মাসে খরচ হবে প্রায় তিন কোটি টাকা; বছরে ৩৬ কোটি টাকা।

বেশ কয়েকজন এসি ল্যান্ড কালের কণ্ঠকে বলেন, জোড়াতালি দিয়ে তাঁদের কাজ করতে হচ্ছে। জরুরি উচ্ছেদ, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা বা মাঠপর্যায়ে অফিস পরিদর্শনের জন্য ডিসি পুলের গাড়ির ওপর নির্ভর করতে হয় অথবা ভাড়া করা গাড়ি ব্যবহার করতে হয়। অনেক সময় স্বল্পতার কারণে ডিসি পুল থেকে গাড়ি পাওয়া যায় না। সরকারি গাড়ি বরাদ্দ পেলে কাজে গতি আসবে। সময়ও বাঁচবে।

এসি ল্যান্ড অফিসের কর্মচারীরা জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা বা উচ্ছেদ অভিযানের জন্য পুলিশ ফোর্সও লাগে। তাদের জন্যও গাড়ির দরকার হয়। ডাবল কেবিনের পিকআপ ভ্যান বরাদ্দ পাওয়া গেলে সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে।

মন্তব্য