kalerkantho


সোনামসজিদ স্থলবন্দরে চোরাচালান

দুই বছরেও বসেনি স্ক্যান মেশিন

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



চোরাচালানের কথিত নিরাপদ রুট হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ বন্দর মহাসড়কটি আগে থেকেই চিহ্নিত। বন্দরের পণ্যবাহী ট্রাক চোরাচালানের পণ্য বহন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

গত ৩ মার্চ চোরাই পথে ভারত থেকে আনা ফেনসিডিল বহনকারী ট্রাকের চালক দুজন পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকায় পিষে হত্যার পর আবার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে থাকা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ এ এলাকার দুটি রুটে চোরাচালান রোধে স্ক্যান মেশিন চেয়েছিল ২০১৪ সালে। এত দিনেও সেই মেশিন দেওয়া হয়নি।

বন্দরকেন্দ্রিক এ মহাসড়ক চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, রাজশাহী, নাটোর হয়ে ঢাকার সঙ্গে মিশেছে। আর এ পথেই পণ্যবাহী ট্রাকে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক পাচার হচ্ছে। সীমান্ত এলাকা শিবগঞ্জজুড়ে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসাও রমরমা। আর এ ব্যবসা মূলত নির্ভর করে পণ্যবাহী ট্রাকগুলোর ওপর।   ফেনসিডিল বহনকারী যে ট্রাকটি চাপা দিয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক সাদেকুল ইসলাম ও সার্জেন্ট আতাউল ইসলামকে হত্যা করে, সেটিও ছিল পণ্য আমদানির কাজে ব্যবহূত ট্রাক। পরে ওই ট্রাকের পাটাতনের নিচ থেকেই এক হাজার ৪৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ চালককে আটক করা হয়।

শিবগঞ্জ থানার ওসি মইনুল ইসলাম জানান, অবাধে পণ্যবাহী ট্রাকগুলোতে মাদকসহ অস্ত্র পাচার করা হয়।

চোরাচালান বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিজিবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে সরকারের উচ্চপর্যায়ে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।

একটি সূত্রে জানা গেছে, সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাকগুলোতে করে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র ভারত থেকে এনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হয়। এর বাইরে সীমান্ত এলাকা শিবগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়েও ভারত থেকে অবৈধ অস্ত্র, ফেনসিডিল ও হেরোইন পাচার হয়ে আসে।

সূত্রটি দাবি করেছে, সোনামসজিদ বন্দর ছাড়ার পর কিছু দূরেই বিজিবির রয়েছে একটি তল্লাশি চৌকি। এখানে স্ক্যান মেশিন বসানো হলে ট্রাকের ভেতর কী কী পণ্য বা অবৈধ কোনো মালামাল আছে কি না, তা সেখানেই ধরা পড়বে। আবার রাজশাহী রুটে গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ী তল্লাশি চৌকিতে এ ধরনের যন্ত্র দেওয়া হলে পণ্যবাহী ট্রাকগুলো পরীক্ষা করা যেত। ২০১৪ সালের জুন মাসের দিকে দুটি স্ক্যান মেশিনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল বলে ওই সূত্রটি জানায়। কিন্তু আমদানি-রপ্তানিতে ধস নামার আশঙ্কার কথা বলে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, তাদের পক্ষ থেকেও সরকারকে একাধিকবার সোনামসজিদ বন্দর মহাসড়কে স্ক্যান মেশিন বসানোর জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। আবার অন্য আরো কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকেও একই সুপারিশ করা হয়েছে।

এ  প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বন্দর শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি আতিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্দরের ভেতর কোনো অবৈধ মাল ওঠে না। যা ওঠে বাইরে গিয়ে রাস্তার মধ্যে। জানতে চাইলে বন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন-অর রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ট্রাকচালকরা কখনো কখনো অবৈধ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আঁতাত করে এগুলো করছে। এতে করে বন্দরের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।


মন্তব্য