kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অবশেষে এমপি রিমনের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত

বিশেষ প্রতিনিধি   

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) অবশেষে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিল। ইসি সচিবালয় বরগুনার পুলিশ সুপারকে শিগগির মামলা করার জন্য নির্দেশনা পাঠাবে।

এর আগে পৌরসভা নির্বাচনে দুই দফা আচারণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে এমপি রিমনকে সতর্ক করেছিল ইসি।

ইউপি নির্বাচনের আচরণবিধিমালা অনুযায়ী এমপিরা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না এবং সরকারি কোনো প্রকল্প উদ্বোধন করতে পারবেন না। আইনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু বিধিভঙ্গ করে এমপি রিমন গত ৫ মে বেতাগী উপজেলার ২ নম্বর কিসমত ভোলানাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কেওড়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জনসভা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, পল্লী বিদ্যুেকন্দ্র উদ্বোধনের নামে আয়োজিত ওই জনসভায় এমপি রিমনের পছন্দের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া এমপি রিমন প্রার্থীদের মঞ্চে তুলে তাঁদের পক্ষে ভোট চান। আগামী ২২ মার্চ অনুষ্ঠেয় প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে নানাভাবে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীদের জিতিয়ে আনার জন্য প্রভাব বিস্তার করেন তিনি। একইভাবে রিমন দলীয় কার্যালয়ে বসে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠকও করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে ইসি সচিবালয় তাঁর বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে।

তবে শওকত হাচানুর রহমান রিমন গত বুধবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওই অনুষ্ঠান কোনো নির্বাচনী জনসভা ছিল না। আমি শুধু সুইচ টিপে প্রকল্প উদ্বোধন করেছি। কোনো কথা বলিনি এবং কারো জন্য ভোট চাইনি। ’

এর আগে পৌরসভা নির্বাচনেও সংসদ সদস্য রিমনকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে ইসি শোকজ নোটিশ দেয়। জবাবে এমপি রিমনের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হয় এবং তিনি নিজে সশরীরে কমিশনে গিয়ে এর পুনরাবৃত্তি না ঘটানোর বিষয়ে অঙ্গীকার করে আসেন।

নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ বলেন, ‘এমপি রিমনের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে। এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।


মন্তব্য