দ্রুত সমাধানের তাগাদা দিল বিজিএমইএ-334595 | খবর | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


দ্রুত সমাধানের তাগাদা দিল বিজিএমইএ

যুক্তরাজ্যে কার্গো নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটি বলেছে, যুক্তরাজ্য তাদের কাছে অনেক বড় বাজার। সেখানে বিমানে পণ্য পাঠানোর নিষেধাজ্ঞা না উঠলে পোশাক খাত ক্ষতির মুখে পড়বে।

গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ঢাকা থেকে যুক্তরাজ্যে সরাসরি কার্গো বিমান চলাচলে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ নিষেধাজ্ঞার পরও বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যে বিমানে পণ্য পাঠাতে পারবে, তবে তা অন্য দেশের বিমানবন্দর হয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি অন্য দেশের বিমানবন্দরে বাংলাদেশি পণ্য ‘স্ক্রিনিং’ বা বাড়তি নজরদারির মধ্যে পড়তে হবে।

এ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ১০-১৫ শতাংশ পোশাক বিমানে পাঠাতে হয়। যুক্তরাজ্যে সরাসরি কার্গো বিমান না গেলে রপ্তানিকারকদের সময় ও খরচ বাড়বে, যা এ খাতের সক্ষমতা কমিয়ে দেবে।

বাংলাদেশ গত অর্থবছর যুক্তরাজ্যে ২৯০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা মোট পোশাক রপ্তানির ১১.৩৯%। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে গেছে প্রায় ১৬২ কোটি ডলারের পোশাক। সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এ বছর তাঁরা যুক্তরাজ্যে ৩৫০ কোটি ডলারের পোশাক পাঠাতে চান। তবে কার্গো বিমান চলাচল নিষিদ্ধ হওয়ায় শুধু রপ্তানিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, দেশের ভাবমূর্তিও সংকটে পড়বে।

কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ কার্যালয়ে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সহসভাপতি মোহাম্মদ নাসির উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে সমুদ্রপথে জাহাজীকরণ সম্ভব না হলে আমরা বিমানযোগে পণ্য পাঠিয়ে থাকি। এত দিন শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাজ্যে সরাসরি পণ্য পাঠাতে পারলেও এখন আমাদের সিঙ্গাপুর, হংকং, থাইল্যান্ড ও দুবাই হয়ে পাঠাতে হবে। এতে করে একদিকে খরচ বাড়বে, অন্যদিকে সময়ও বেশি লাগবে। অর্থাৎ বিশ্ব বাজারে আমাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাবে।’

তিনি উল্লেখ করেন, একই কারণ দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকার গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশ থেকে তাদের দেশে আকাশপথে কার্গোযোগে যেকোনো পণ্য প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা এখনো বলবৎ রয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার বাজারের চেয়ে যুক্তরাজ্যের বাজারের গুরুত্ব অনেক বেশি দাবি করে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক প্রতিনিয়ত বাড়ছে, তাই বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা করে দ্রুত সমাধান করা জরুরি। যুক্তরাজ্য কোন কারণ দেখিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা জানতে হবে এবং প্রয়োজনে একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করে সমাধান করতে হবে।’

মন্তব্য