kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রার্থীকে হুমকির সিডি ইসিতে

‘আমি আ. লীগের সেক্রেটারি প্রার্থীগো জিতাইয়া আনতে যা করার করাম’

বিশেষ প্রতিনিধি   

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নিজ ভাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হুমকি দিয়েছেন জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জিন্নাহ। তিনি বলেছেন, ‘আমগর প্রার্থীর অবস্থা খুব বেশি ভালো না।

তার পরও.. তার পরও জেলার নেতাগর যেই ঘোষণা, আমগর যেই ঘোষণা, এইডা তো করতে হইবো। আমি থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি। আমার ১১টা ইউনিয়নের প্রার্থীরে পাশ করাইতে যদি নির্দেশ আসে, আমার যা করার দরকার আমি তা করবাম’।

মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডারে ধারণ করা ওই হুমকির সিডিসহ গতকাল নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এ-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেশ করেন মেলান্দহ উপজেলার ৪ নম্বর  নংলা ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ‘মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. মাহফুজুল হকের লোকজন বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে আসছে। মঙ্গলবার রাতে তাঁর ভাই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জিন্নাহ বুধবারের মধ্যে আমাকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য হুঁশিয়ারি দেন। অন্যথায় আমার পরিবারের সদস্যদের এবং আমার কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার ও জানমালের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দেন। এ ক্ষেত্রে থানার ওসি প্রত্যক্ষভাবে তাঁকে সহায়তা করবেন বলে আমি একাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে জেনেছি। এরপর আমার ছোট ভাই জাহিদুল হক তাঁকে বিষয়টি নিয়ে ফোন করলে তিনি এই রকম কথা বলতে থাকেন। ’

কথোপকথনে জাকিরের ছোট ভাইকে জিন্নাহ বলেন, ‘আমি থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি। আমার ১১টা ইউনিয়নের প্রার্থী পাশ করাইতে, যদি আমার নির্দেশ আসে, আমার যা করার দরকার আমি তা করবাম। আমার ইউনিয়ন তো আছেই? ১১টা ইউনিয়ন। বুঝো? কায়দা কৌশল অনেক কিছু হইতে পারে। তখন তো তোমরা আমার দোষটা দিতে পারবা না। এটা থ্রেড করা না। থেড্র মারা হইলে তো মিয়া কাগজই সাবমিট করতে পারত না। তোমার ভাই ভোট পাইবো। তোমার ভাইকে কেউ চিনে? ভোট দিবো মানুষ? একটা ভোটের মূল্য নাই? জাকিরকে বলছি আমি। যে তুমি চিন্তা করে দেহগা। তোমারে আমি কইলাম। তোমাদের পরিবারের মধ্যে বলা আমার দায়িত্ব। আমি কইলাম। তোমরা একটু ভাইবা দেহগা।   ভাই দেইখা, কাইলকা আমি তোমারে কল করমু না। তোমার ভাববার সময় দিছি। তুমি ভাইবা চিন্তা কইরা আমারে একটা উত্তর দিও। উইড্রো করার ডেটটা থাহে কি জন্য? অনেক প্রার্থী উইড্রো করবো। অনেক। এই যে মনে করো ১৩ তারিখে, মেম্বারের থেকে চেয়ারম্যান পর্যন্ত অনেক মানুষ। অনেক মানুষ উইড্রো করবো। যদি করো তাও আমারে জানাইও। আর না করলেও আমারে জানাইও। ’

জিন্নাহ আরো  বলেন, শোনো তোমারে আমি একটা কথা আজকে রাইতে কইয়া যাই... যদি দেহি আমার ইউনিয়নে নির্বাচনে কঠিন অবস্থা হইছে, তুমি যে কেন্দ্রে তোমার এজেন্ট দিবা, ওটাও আমি হইতে দিমু না। যদি মনে করি আমি, আমার নৌকা ফেল করবো। আমার শেখ হাসিনার মার্কা ফেল করবো। বঙ্গবন্ধুর মার্কা ফেল করবো। তখন তো হার্ডলাইনে যাইতেই হইবো। তোমার যে কেন্দ্রটা, তুমি যে কেন্দ্রে ভোট দিবা, ওই কেন্দ্রেই এজেন্ট হইতে দিমু না আমি। ভাইবা দেহগা। ’ এ সময় জাকিরের ছোট ভাই তাঁকে বলেন, ‘এই আত্মবিশ্বাস তো আপনার আছেই। এটা থাকলে আর কোনো কিছুই লাগে না। তাহলে নির্বাচন করলে তো সমস্যা নাই। ’ জিন্নাহ তখন বলেন, আমি তো এক কথায় কইলাম। এইটা তো আমি এগারোটা ইউনিয়নের জন্য করবো। ’

এদিকে এমন বক্তব্যের বিষয়ে গতকাল যোগাযোগ করা হলে মো. জিন্নাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি তাকে কোনো হুমকি দেইনি। বলেছি দলের প্রার্থীকে জেতাবার জন্য আইনসংগতভাবে যা করার করবো। এটা আমাদের দলীয় দায়িত্ব, তাদের পরিবারের একটি সম্পর্ক আছে বলেই আমি কথাগুলো বলেছি। ’ অন্য যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য হলে নির্বাচন কমিশন আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।


মন্তব্য