kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হাইটেক পার্কে যেন পরিবেশের ক্ষতি না হয় : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



হাইটেক পার্কে যেন পরিবেশের ক্ষতি না হয় : প্রধানমন্ত্রী

দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণাধীন হাইটেক পার্কগুলোর কারণে সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশের যেন ক্ষতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার হাইটেক পার্ক বোর্ড অব গভর্নরসের প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সকালে অনুষ্ঠিত সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, সভায় পরিবেশ রক্ষা করে হাইটেক পার্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করে আইসিটি পার্কগুলো গড়ে তুলতে হবে। বৈঠকে পার্কগুলো স্থাপনকাজের অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে আইটি খাতে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এবং ৫০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। হাইটেক পার্কে বিশ্বমানের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। আইটি খাত থেকে ২০২১ সালের মধ্যে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য পূরণ হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

সভায় হাইটেক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম হাইটেক পার্ক স্থাপনের অগ্রগতির বিষয়ে নানা তথ্য তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ এ সামাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি এ এইচ এম মাহফুজুল আরিফ, প্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার প্রমুখ ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন।

দেশে মোবাইল-ল্যাপটপ উত্পাদনে শুল্ক ছাড় : হাইটেক পার্ক গভর্নিং বডির প্রথম সভায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেশে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ ডিজিটাল ডিভাইস উত্পাদনে শুল্কছাড় ও প্রণোদনা দেবে সরকার। টেলিভিশন, মোবাইল, ডেস্কটপ, ল্যাপটপ অ্যাসেম্বল করতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানিতে উেস কর মওকুফ করা হবে। একই সঙ্গে সফটওয়্যার ও আইটিইএস খাতে যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে তা হার্ডওয়্যার খাতেও চালু করা হবে। সভায় ময়মনসিংহে হাইটেক পার্ক নির্মাণে ৭ দশমিক ৪ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সভা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণ তৈরি আমদানি পণ্যের দামের তুলনায় দেশে সংযোজন বা উত্পাদনের স্বার্থে যন্ত্রাংশের শুল্ক-ভ্যাটসহ দাম কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন ভাবনার সঞ্চার করেছে। এতে আরো একটি মাইলফলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রথম মেধাভিত্তিক শিল্পের জন্য আলাদা শ্রম আইন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। ’

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তটিকে ‘মেইক বাই বাংলাদেশ’ স্বপ্ন বাস্তবায়নে মাইলফলক মন্তব্য করে বিসিএস সভাপতি এ এইচ এম মাহফুজুল আরিফ বলেন, হার্ডওয়্যার খাতের দেশি ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠায় সরকার যে প্রণোদনা ও উৎসাহমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা দূরদর্শী।


মন্তব্য