যশোরে ছাত্রলীগ নেতাকে গুলি পিটিয়ে-334131 | খবর | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


যশোরে ছাত্রলীগ নেতাকে গুলি পিটিয়ে হাত-পা ভাঙল পুলিশ

বিশেষ প্রতিনিধি, যশোর   

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



যশোরে ছাত্রলীগ নেতার এক পায়ে গুলি এবং পিটিয়ে তাঁর অন্য পা ও হাত ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার মধ্যরাতে শহরের শেখহাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ আরিফ হোসেন (২০) শহরতলির শেখহাটি গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। তাঁকে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরিফ গত বছর স্থানীয় আল-হেরা ডিগ্রি কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। তিনি সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল।

পুলিশের ওপর হামলা করার পর আরিফকে গুলি ও গ্রেপ্তার করা হয় বলে দাবি করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের ওপর হামলার কথা অস্বীকার করেছেন আরিফ।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি ইলিয়াস কালের কণ্ঠকে বলেন, আরিফ মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে শেখহাটি বিশ্বাসপাড়া এলাকায় একটি মার্কেটের সামনে অস্ত্র ও গুলি নিয়ে অবস্থান করছে—এমন খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। এ সময় তিনি এএসআই শাহাবুলের ঘাড় লক্ষ্য করে রামদা দিয়ে কোপ দেন। শাহাবুল ঘাড় সরিয়ে নেওয়ায় রক্ষা পেয়েছেন। এরপর পুলিশ আত্মরক্ষার্থে দুই রাউন্ড গুলি চালালে একটি আরিফের বাম পায়ের হাঁটুর নিচে লাগে। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে তাঁর কাছ থেকে একটি রামদা, একটি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। তাঁর নামে থানায় দুটি মামলা রয়েছে।

তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরিফ কালের কণ্ঠকে বলেন, বন্ধু টিপুর মোটরসাইকেলে করে স্থানীয় নওয়াপাড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি বলেন, ‘শেখহাটি প্রাইমারি স্কুলের কাছে এএসআই শাহাবুল আমাকে আটক করে কিছু বুঝে ওঠার আগেই মারধর শুরু করে এবং পুলিশের কাছে থাকা রামদা দিয়ে বাম পায়ে কোপ দেয়। এরপর শটগান দিয়ে গুলি করে। ডান পা ও বাম হাতও পিটিয়ে ভেঙে দিয়েছে। পুলিশ কেন এমন করল, তা আমি বলতে পারছি না।’ অস্ত্র ও গুলির বিষয়ে কিছুই জানেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

আরিফের মা মনোয়ারা খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলে যদি কোনো অপরাধ করে থাকে, তাহলে তার বিচার হোক। কিন্তু এভাবে আমার ছেলেকে পঙ্গু করে দেবে? আমি কার কাছে বিচার চাইব?’

প্রতিবেশী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আরিফের বন্ধু টিপু মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল। আরিফ পেছনে বসে ছিল। পুলিশ দুজনকে থামার নির্দেশ দেয়। ওরা না থেমে সামনে এগিয়ে গেলে পুলিশ আরিফকে ধরে গুলি ও পিটিয়ে দুই পা ও হাত ভেঙে দিয়েছে।’

মন্তব্য