বরিশালে কোচিংয়ে শিশু নির্যাতনের-334130 | খবর | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


বরিশালে কোচিংয়ে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ

পালিয়েছেন পরিচালক ও তাঁর স্ত্রী

বরিশাল অফিস   

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বরিশালে একটি আবাসিক কোচিং সেন্টারে নিয়মিত শিশুদের নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী নিশাত রেজিন লামকে (১০) নগরীর বৌদ্ধপাড়ার অনির্বাণ ক্যাডেট কোচিং সেন্টারের পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মো. বেল্লাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী ফাতেমা বেগম মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিশাত পটুয়াখালী সদরের লামনা গ্রামের মাজাহারুল ইসলাম ও আলমিনা ইসলামের মেয়ে। সে ক্যাডেট কলেজে ভর্তি প্রস্তুতির জন্য চলতি বছর জানুয়ারিতে অনির্বাণ ক্যাডেট কোচিংয়ে ভর্তি হয়। তবে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। প্রায় এক যুগ ধরে তাঁরা এ কোচিং চালাচ্ছেন। এবং শুরু থেকেই তাঁদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতনের জন্য বহু শিক্ষার্থী কোচিং ছেড়ে গেছে বলে জানা গেছে।

নির্যাতনের শিকার ছাত্রী নিশাত জানায়, গত সোমবার রাতের খাবার শেষে পানি পানের জন্য সে চার তলা থেকে নিচে নামে। এতে ফাতেমা বেগম ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মারধর করেন। পরের দিন খবর পেয়ে নিশাতের চাচা আবদুস সালাম তাকে দেখতে গেলে তাঁর সামনেই নিশাতের মাথা টেবিলের ওপর চেপে ধরেন বেল্লাল হোসেন। বিষয়টি সালাম তাঁর ভাই ও ভাবিকে জানালে মঙ্গলবার সকালে তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে যান নিশাতের মা আলমিনা ইসলাম। কিন্তু পরিচালক তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এ সময় ঘটনা জেনে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা কোচিংয়ে গেলে বেল্লাল হোসেন ও ফাতেমা বেগম পালিয়ে যান। খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কোচিং সেন্টারের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, বেল্লাল স্যার ও তাঁর স্ত্রী প্রায় সময় তাদের ট্রলি, ঝাড়ু ও লাঠি দিয়ে পিটান। মা-বাবা এলে তাঁদেরও গালিগালাজ করেন।

স্থানীয় ওয়াহিদুজ্জামান জুয়েল জানান, বেল্লাল হোসেন ও ফাতেমা বেগমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ বহু পুরনো। এসব নিয়ে প্রায়ই ঝামেলা বেধে থাকে। বেশির ভাগ সময় স্থানীয়রা বিষয়গুলো মিটমাট করে দেয়। গত এক মাসে নির্যাতনের শিকার হওয়া কমপক্ষে ২০ শিক্ষার্থীকে অভিভাবকরা নিয়ে গেছেন।

নিশাতের মা আলমিনা ইসলাম জানান, ‘প্রতি মাসে সাড়ে ছয় হাজার টাকা দিয়ে মেয়েকে এ কোচিং সেন্টারে পড়াচ্ছি। প্রায়ই শুনতে পাই পরিচালক ও তাঁর স্ত্রী শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। সোমবার মেয়েকে মারধরের খবর শুনে তাকে বাড়ি নিয়ে আসতে চাইলে বেল্লাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী আমাকে ও আমার দেবর সালামকে মারতে আসেন।’

নির্যাতনের শিকার তানভির নামের এক শিক্ষার্থীর মা রোকসানা বলেন, ‘এ কোচিং সেন্টারে ছেলে ভর্তি করিয়েছিলাম। কিন্তু পরিচালক ও তাঁর স্ত্রীর নির্যাতনের কারণে ছেলেকে নিয়ে গেছি। এ কোচিংয়ে শিক্ষার্থী নির্যাতন নিত্যদিনের ঘটনা।’

তবে গতকাল অনির্বাণে গেলে পরিচালক বা তাঁর স্ত্রী কাউকেই পাওয়া যায়নি। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রতি মাসেই ওই কোচিং সেন্টারের পরিচালক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ঝামেলা বাধে। গত মঙ্গলবার কোচিং সেন্টারে ঝামেলা হয়েছিল। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য