kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কাফরুলে গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু

সন্দেহভাজন চারজন রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রাজধানীর কাফরুলে গত রবিবার কিশোরী জনিয়া আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহভাজন আটক চারজনকে গতকাল মঙ্গলবার ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তারের পর আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

ওই চারজন হলেন ন্যাম গার্ডেনের কেয়ারটেকার সিদ্দিকুর রহমান, নিরাপত্তাকর্মী এমদাদুল হক, লিফটম্যান রিয়াজুল হক ও সোহেল রানা।

ঘটনার দিনই তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গতকাল তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। আদালত সিদ্দিকুর রহমানকে দুই দিন ও অন্যদের তিন দিন করে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

কাফরুল থানার ওসি শিকদার শামীম হোসেন জানান, ‘সন্দেহভাজন চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা বলছে, মেয়েটি ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার পর তারা দেখেছে। তবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। ’

তবে জনিয়ার স্বজনরা অভিযোগ করছেন, ধর্ষণের পর ছাদ থেকে ফেলে হত্যার সুর্নিদিষ্ট অভিযোগ করা হলেও পুলিশ এখনো হত্যা মামলা নিচ্ছে না। জনিয়ার বাবা ওসমান গণি গতকাল বলেন, তাঁর মেয়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুগ্ম সচিব আহসান হাবিব, তাঁর ছেলে রুম্মান বিন আহসান ও স্ত্রী নাজনীন আক্তার জড়িত। তাঁদের বিরুদ্ধে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। পুলিশ আসল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারও করছে না। কয়েকজন কর্মচারীকে ধরে ঘটনা ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জনিয়ার বাবার অভিযোগের ব্যাপারে ওসি শিকদার শামীম হোসেন বলেন, লাশ উদ্ধারের পর প্রাথমিকভাবে অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে। এ তদন্তের সঙ্গেই জনিয়ার বাবার অভিযোগের তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে অবশ্যই জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে।  

প্রসঙ্গত, কাফরুলে ন্যাম গার্ডেনের ৩ নম্বর ভবনের ৪০৩ বি ফ্ল্যাটে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের যুগ্ম সচিব আহসান হাবিবের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করেন জনিয়ার মা ফুলবানু। রবিবার মায়ের পরিবর্তে কাজে যায় জনিয়া (১৫)। পরে ওই ভবনের নিচে তার রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। স্বজন ও পুলিশ জানায়, জনিয়ার মুখে ওড়না প্যাঁচানো এবং শরীরে ধর্ষণের পর হত্যার আলামত আছে। তবে পুলিশ অপমৃত্যু মামলা নেওয়ায় সোমবার মেয়েটির লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও, সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী।


মন্তব্য