kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

কাজ দ্রুত এগোচ্ছে রয়েছে উদ্বেগও

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার   

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কাজ দ্রুত এগোচ্ছে রয়েছে উদ্বেগও

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের কাজ এগিয়ে চলছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। বর্তমান রানওয়ের ছয় হাজার ৭৭৫ ফুট প্রশস্তকরণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সে সঙ্গে চলছে ভূমি উন্নয়নের কাজও। এবার শুরু করা হবে দুই হাজার ২২৫ ফুট দীর্ঘ নতুন রানওয়ের কাজ। ব্যবহারের দিক দিয়ে এখন দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে কক্সবাজার। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে বর্তমানে কক্সবাজার-ঢাকা রুটে দৈনিক ১১টি যাত্রীবাহী বিমানে যাতায়াত করছে সাত শতাধিক যাত্রী।

তবে অনেক প্রত্যাশার বিমানবন্দরটির রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজে সাগর পারের ছোট্ট শহরটির যে পরিমাণ জমি প্রয়োজন হচ্ছে তাতে নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে উদ্বেগ। কারণ রানওয়ে সম্প্রসারণের কারণে তা চলে আসছে নতুন স্থাপিত শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সীমানা পর্যন্ত। আর সাগর পারের ঝাউবিথীর বড় একটি অংশও এতে কাটা পড়বে।

নতুন এ সংকটের কথা স্বীকার করে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ‘বিমানবন্দরের মাস্টার প্ল্যান করা হয় ২০১০ সালে। বিষয়টি সম্পর্কে আমি পুরোপুরি অবহিত ছিলাম না। বর্ধিত রানওয়ে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সীমানা পর্যন্ত যেতে দেখে আমি নিজেই হতবাক। ’ তিনি আরো বলেন, তবে হতাশ হওয়ার মতো কিছু হবে না। দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশের স্বার্থে যা করতে হয় তাই করা হবে।

কক্সবাজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মোহাম্মদ শাহজাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত ঝাউবাগান, একাত্তরের বধ্যভূমি অক্ষত রেখেই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গড়ে তোলা হোক।

নতুন রানওয়ের জন্য অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও গুঁড়িয়ে ফেলতে হবে। এসবের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল, বাহারছড়া হাই স্কুল, কামিল বালিকা মাদ্রাসা, সানি বিচ কেজি স্কুল, ডায়াবেটিক হাসপাতাল, শিল্পকলা একাডেমি, ঐতিহ্যবাহী সি বিচ রেস্ট হাউজ, হোটেল শৈবালসহ পাঁচটি কটেজ, বিদ্যুৎ অফিস, সেনাবাহিনী প্রকৌশল বিভাগের স্থাপনা, রেড ক্রিসেন্ট অফিসসহ আরো বহু হোটেল-মোটেল।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় শিক্ষাবিদ কক্সবাজার ডায়াবেটিক সমিতির সহসভাপতি এম এম সিরাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সীমানা পর্যন্ত রানওয়ে বিস্তৃত হলে সাগর পারে স্থাপিত তারকা হোটেলগুলোর কী অবস্থা দাঁড়াবে সেটাই এখন ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভিস্তা বে রিসোর্টের মালিক আবু তাহের বলেন, রানওয়ে হোটেলের কাছে এসে গেলে পর্যটকরা ঘুমাবেন কিভাবে?

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার বেসরকারি দুটি কম্পানির জয়েন্ট ভেঞ্চারে। ‘লা মীর আকতার হোসেন সিওকম’ নামের এই জয়েন্ট ভেঞ্চার কম্পানির কাজে নিয়োজিত প্রকৌশলী মানিক কুমার বিশ্বাস গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে বলেন, এখন দিনরাত কাজ চলছে। প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ আগামী বছরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। প্রসঙ্গত প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ২০১৮ সালের ২৬ জানুয়ারি।

প্রকৌশলী মানিক আরো জানান, গেল বছর ২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কক্সবাজার বিমানবন্দরের কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। প্রকল্পটিতে ব্যয় হচ্ছে ৫৭৮ কোটি ২০ লাখ টাকা।

সম্প্রতি কক্সবাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাসদ কক্সবাজার জেলা কমিটির সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল অভিযোগ করেন, বাঁকখালী নদী ড্রেজিং করে সে বালি দিয়ে প্রকল্পের জমি ভরাট করায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রকৌশলী মানিক জানান, কাজের কার্যাদেশ মতো মানসম্পন্নভাব বজাই রেখেই কাজ করা হচ্ছে। বরং বাঁকখালী ড্রেজিং করায় দীর্ঘদিন পর সেই নদী এখন নাব্যতা ফিরে পেয়েছে। বিমানবন্দরের জমিতে বসবাসরত লোকজনের পুনর্বাসনের জন্য ২৫৩ একর জমি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পও গড়ে তোলা হচ্ছে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সাধন কুমার মহান্ত কালের কণ্ঠকে বলেন, একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে কমপক্ষে ১০ হাজার ফুট দীর্ঘ হতে হয়। ঢাকা বিমানবন্দরের রানওয়ে হচ্ছে ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ। তবে জমির অভাবে কক্সবাজার বিমানবন্দরে হচ্ছে ৯ হাজার ফুটের রানওয়ে। তিনি জানান, এ রানওয়েতে বড় বড় বিমান ওঠানামা করতে পারবে। বিদেশ থেকে সরাসরি পর্যটকরা কক্সবাজারে আসতে পারবে। বিমান কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ব্যাংকক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে কক্সবাজারে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করার প্রস্তাবও দিয়েছে।


মন্তব্য