অপ্রীতিকর ঘটনায় অচলাবস্থা দুই রোগীর-333850 | খবর | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


হবিগঞ্জ আধুনিক হাসপাতাল

অপ্রীতিকর ঘটনায় অচলাবস্থা দুই রোগীর মৃত্যু

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



হবিগঞ্জ আধুনিক হাসপাতালে অপ্রীতিকর ঘটনার সূত্রে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। একজন বিচারকের চিকিৎসাকালে সোমবার রাতে হাসপাতাল ও আদালতের স্টাফরা বাগিবতণ্ডায় জড়ালে ঘটনার সূত্রপাত। গতকাল এ বিষয়ে মামলা হলে আদালত একজন চিকিৎসকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। অন্যদিকে আদালতের স্টাফদের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার ও হয়রানির পাল্টা অভিযোগ তুলে হাসপাতালের স্টাফরা কর্মবিরতি শুরু করায় পরিস্থিতি জটিল রূপ নিয়েছে। জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করছে। তবে গত রাত পর্যন্ত এ বিষয়ে অগ্রগতি না ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের স্বজনরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। গত রাতে কর্মবিরতি চলাকালে দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা না পেয়ে তাঁরা মারা গেছেন বলে স্বজনরা অভিযোগ করেছে।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, পরোয়ানা জারিসহ উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনেকে পালিয়ে গেছেন। এ অবস্থায় হাসপাতালে পানি, বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। জরুরি বিভাগ ছাড়া চিকিৎসা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ। গত রাতেই রোগীদের অনেককে স্বজনরা ক্লিনিকে স্থানান্তর করেছে। রাত ৮টার দিকে লাখাই উপজেলার পূর্ব সিংহ গ্রামের আ. মতলিব (৭০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ছেলে আ. রহমান অভিযোগ করেছেন, শ্বাসকষ্টের রোগী মতলিবের অবস্থার অবনতি ঘটলে অক্সিজেন দেওয়া হয়নি, চিকিৎসকরা যাননি। মূলত চিকিৎসা অবহেলায় তাঁর মৃত্যু ঘটেছে।

এদিকে চিকিৎসকের নামে পরোয়ানা জারিসহ সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় সিভিল সার্জনের কক্ষে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গভীর রাত পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি নাজিম উদ্দিন জানান, হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আদালত থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট এসেছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ চালু রয়েছে। সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে চেষ্টা চলছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাফরোজা পারভীন। চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে তখন হাসপাতাল স্টাফদের সঙ্গে তর্ক হয় জেলা জজ আদালতের নাজির রেজাউল করিম খোকনের। বাগিবতণ্ডার একপর্যায়ে জজের নিরাপত্তায় নিয়োজিত কনস্টেবল নূরে আলম রনি হাসপাতালের ব্রাদার হাবিবুর রহমানকে আটক করে সদর থানায় হস্তান্তর করেন।

মন্তব্য