kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ড বহাল

রায় দ্রুত কার্যকরের তাগিদ বিশিষ্টজনদের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রামের আলবদর নেতা ‘বাংলাদেশি খান’ মীর কাসেম আলীকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড আপিল বিভাগ বহাল রাখায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা, বিশিষ্টজন ও নানা সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। তারা বলেছেন, মীর কাসেম একাত্তরে যে জঘন্য অপরাধ করেছে মৃত্যুদণ্ডই ছিল তার উপযুক্ত শাস্তি।

সেটি সে পেয়েছে। এখন দেখার বিষয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে কত দ্রুত এ রায় কার্যকর হয়।

শাহরিয়ার কবির : একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, একাত্তরে যে অপরাধ সংঘটন করেছে আলবদরা তার সর্বনিম্ন শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড। মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ড আপিল বিভাগে বহাল থাকায় তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একাত্তরের পর এই অপরাধীরা অগাধ সম্পত্তির মালিক বনে গেছে, এসব সম্পত্তি তারা দেশের বিরুদ্ধে ব্যয় করছে। এখনো তাদের সেই সম্পত্তি রয়ে গেছে। শাহরিয়ার কবির দাবি জানান, দণ্ডিত অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে একাত্তরের শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুনর্বাসিত করার।

তুরিন আফরোজ : আপিলে মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকায় আদালতকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ। গতকাল রায়ের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অনেক প্রতীক্ষার পর আমরা ভালো ফল পেলাম। তবে আশা করছি যথাসময়ে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। ’

কে এম সফিউল্লাহ : সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের চেয়ারম্যান কে এম সফিউল্লাহ বলেছেন, রায় বহাল থাকার মাধ্যমে প্রমাণ হলো, টাকা দিয়ে সব কেনা যায় না। গতকাল বিকেলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ন্যায়বিচার হয়েছে। আমরা খুশি।

রানা দাশগুপ্ত : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মীর কাসেমের মামলা পরিচালনাকারী অন্যতম প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত চূড়ান্ত রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, এই মামলায় আপিল বিভাগের শুনানিকালে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে আজ (মঙ্গলবার) ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড আপিল বিভাগ বহাল রাখার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো, তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন এই মামলায় যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছে।

সেক্টর কমান্ডরস ফোরাম : আপিল বিভাগ মীর কাসেম আলীর দণ্ড বহাল রাখায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম। গতকাল আপিল বিভাগের রায়ের পর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। এতে বলা হয়, আলবদর বাহিনীর তৃতীয় প্রধান একাত্তরের কুখ্যাত অপরাধী মীর কাসেমের যোগ্য শাস্তি নিশ্চিত হওয়ায় যুদ্ধাপরাধের বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পন্ন হয়েছে।

উদীচী : মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে আলবদর বাহিনীর প্রধান সংগঠক ও জামায়াতের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক পৃষ্ঠপোষক মীর কাশেম আলীর মৃত্যুদণ্ডের রায় আপিল বিভাগে বহাল থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। এক বিবৃতিতে উদীচীর সভাপতি কামাল লোহানী এবং সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সরদার বলেন, নির্যাতনের শিকার মানুষ এবং মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। আইনি সব জটিলতা কাটিয়ে অবিলম্বে মীর কাশেম আলীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করার দাবি জানান তাঁরা।

বোয়াফ : ফাঁসির রায় বহাল থাকায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সত্যের জয় ও নতুন প্রজন্মের বিজয় অর্জিত হয়েছে বলে মনে করে বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বোয়াফ)। গতকাল সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ব্লগার রফিকুল ইসলাম রাকিবের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এটি জানানো হয়।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া : সন্তোষ প্রকাশ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, ‘কাসেম আলী সারা বিশ্বে লবিস্ট নিয়োগ করে জামায়াত-শিবিরকে রক্ষা করার জন্য। বিএনপির আগুন সন্ত্রাসীদের প্রতিষ্ঠা করা ও নিজের ফাঁসি থেকে বাঁচার জন্যও ষড়যন্ত্র করেছিল। কিন্তু সব ষড়যন্ত্র ও অপপ্রয়াস ব্যর্থ হয়ে আজ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ’ মায়া গতকাল সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক অবস্থান কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন। সম্মিলিত আওয়ামী সমর্থক জোট যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে এ অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে।


মন্তব্য