kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


খুলনায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বেপরোয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা   

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



খুলনা জেলায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বেপরোয়া আচরণ শুরু করেছেন। একের পর এক প্রতিপক্ষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে।

দলীয় বিদ্রোহী, স্বতন্ত্র, বিএনপি প্রার্থী, এমনকি চিকিৎসক, সাংবাদিকও এই হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। দু-একটি ঘটনায় মামলা হলেও কোনো হামলাকারী এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হননি।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান, বিএনপি নেতা খান আলী মুনসুর নির্বাচনী প্রচারে গেলে চুকনগর বাজারে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখে। তাঁকে নির্বাচনী প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হয়।

একই দিন সকাল ১১টার দিকে বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়ন পরিষদের রিয়া বাজারে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। মুন্সী ওয়াহিদুজ্জামান লিঙ্কন নামের এক আওয়ামী লীগ সমর্থকের সঙ্গে কথাকাটাকাটির জের ধরে এ ঘটনার শুরু। এতে জলমা ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী অনুপ কুমার মণ্ডলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। আহত হয় মিরাজ নামের এক কর্মী। লবণচরা থানার ওসি মো. সোহরাব হোসেন বলেছেন, এটা ‘মামুলি’ ঘটনা।

এর আগের দিন সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোস্তর মোড় এলাকায় ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোস্তফা সরওয়ারের সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা গাজী আবুল হাসান ও তাঁর সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এতে হাসানের দুজন সমর্থক আহত হয়। হামলাকারীরা হাসানের তিনটি মোটরসাইকেল ও দুটি মহেন্দ্র (তিন চাকার যান্ত্রিক যান) ভাঙচুর করে।

অথচ স্থানীয় হরিণটানা থানায় হামলাকারীদের লোকজনই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আগেভাগে এসে অভিযোগ দাখিল করে। এই ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের গুটুদিয়া ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজী নুরুল ইসলামও প্রার্থী হয়েছেন। তৃণমূলে প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তিনিই সর্বাধিক ভোট পেয়েছিলেন। বর্তমান চেয়ারম্যান মোস্তফা সরওয়ার তৃণমূলে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছাই পোষণ করেননি। অথচ তাঁকেই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

ছাত্রলীগ কয়রা উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও কয়রা সদর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাহারুল ইসলাম ও তাঁর সমর্থকরা গত রবিবার কয়রা প্রেসক্লাবের সভাপতি মতিউর রহমানকে পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় বাহারুল ইসলামসহ আটজনকে আসামি করে কয়রা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে কেউই গ্রেপ্তার হয়নি।

বাহারুল ইসলাম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি (মতিউর রহমান) নৌকার বিরুদ্ধে বলায় সমর্থকরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। তিনি সমর্থকদের নিবৃত্ত করেছেন।

খুলনা জেলার ৯টি উপজেলার ৬৭টি ইউনিয়নে আগামী ২২ মার্চ ভোটগ্রহণ হবে। এতে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আছেন ৪৫ জন। এর মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান রয়েছেন ১৩ জন। বিএনপির প্রার্থী আছে ৫৭টি ইউনিয়নে। তেরখাদা সদর ইউনিয়ন পরিষদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এফ এম অহিদুজ্জামান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি তাঁর স্বজনসহ তেরখাদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুনের ওপর হামলা চালান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতের এ ঘটনায় জেলাজুড়ে চিকিৎসকরা ধর্মঘট পালন করেন।

বিএনপি প্রার্থীরাও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকদের হামলার শিকার হচ্ছেন। গত ৪ মার্চ রাতে দিকে বটিয়াঘাটার আমীরপুর ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী খায়রুল ইসলাম খানকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা কুপিয়ে আহত করে। এর আগের দিন রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নে শ্রমিক দল নেতা উজ্জ্বল রায়ের বাড়িতে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

উজ্জ্বল অভিযোগ করেন, বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করার জন্য নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আশরাফুজ্জামান বাবুলের লোকেরা এই হামলা চালিয়েছে।

রূপসার শ্রীফলতলা ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হাসানের কর্মীরাও হামলার শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া নৈহাটি ইউনিয়নে ও টিএস বাহিরদিয়া ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থীরা হামলার শিকার হয়েছেন।

বিএনপি খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম মনা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারি দল আমাদের দাঁড়াতেই দিচ্ছে না। হামলা, হুমকি-ধমকি—সব কিছু আছে।


মন্তব্য