kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দুই লঞ্চের সংঘর্ষে দুই সন্তানসহ মা নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল ও বরগুনা প্রতিনিধি   

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মেঘনা নদীতে দুটি লঞ্চের সংঘর্ষে দুই সন্তানসহ এক নারী নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছে তাঁর আরেক সন্তান, যার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

গত শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে বরিশালের হিজলা ও চাঁদপুরের সীমান্তবর্তী মিয়ারচর এলাকায় মেঘনা নদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী লঞ্চ এমভি কিং সম্রাট এবং ঢাকা থেকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীগামী এমভি জাহিদ-৪ লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তিনজনই এমভি কিং সম্রাট লঞ্চের যাত্রী। তাঁরা হলেন বরগুনা সদর উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের বাইনসামের্ত গ্রামের নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী তাসনিমা বেগম (৪৫), তাঁর ছেলে হিরণ (২২) ও মেয়ে জান্নাত (৭)। তাঁর আরেক মেয়ে নাসরিন (১৪) ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিহত তাসনিমার দূর সম্পর্কের দেবর দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, তাঁর ভাবি তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে স্বামীসহ রাতে বরগুনা থেকে ঢাকায় আসছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তাঁর ভাই নিজাম উদ্দীন শৌচাগারে থাকায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান।

দেলোয়ার জানান, তিনজনের লাশ ঢাকার খিলগাঁওয়ের পশ্চিম নন্দীপাড়ায় তাঁদের বাসায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁরা থানায় কোনো মামলা দায়ের করেননি।

কিং সম্রাট লঞ্চের তত্ত্বাবধায়ক জাকির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, শনিবার তাঁরা বরগুনা থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। রাত পৌনে ২টার দিকে হিজলার শেষ মাথায় মেঘনার মিয়ারচর এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা এমভি জাহিদ-৪ নামের লঞ্চটি তাঁদের লঞ্চের মাঝ বরাবর ধাক্কা দেয়। এতে লঞ্চের বাম দিকের ডেক এবং তিন তলার কেবিনের প্রায় ২৫ ফুট অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ডেকের যাত্রী তাসনিমা ও তাঁর তিন ছেলেমেয়ে আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাসনিমা ও জান্নাতের মৃত্যু হয়। আহত দুই ভাইবোন হিরন ও নাসরিনকে প্রথমে চাঁদপুরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে আনার পথে হিরণের মৃত্যু হয়।

জাকির হোসেন আরো বলেন, জাহিদ-৪ লঞ্চের চালক সম্পূর্ণ ‘রং সাইডে’ গিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। লঞ্চটি বর্তমানে ঢাকায় রয়েছে।

তবে এমভি জাহিদ-৪ লঞ্চের চালক সানাউল্লাহ মিয়া মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, কিং সম্রাট লঞ্চটির চালক এমনভাবে আলো ফেলছিল যে সামনের কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। তাঁকে সংকেতও দেওয়া হয়েছিল কয়েকবার। কিন্তু তিনি মানেননি। এ কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সানাউল্লাহ জানান, দুর্ঘটনার পর তাঁরা যাত্রী নিয়ে রাঙ্গাবালী ঘাটে নোঙর করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বাধা-নিষেধ না থাকায় তাঁরা যাত্রী পরিবহন অব্যাহত রাখবেন।

বরিশাল নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক আবুল বাশার মজুমদার বলেন, তাঁদের ঢাকা কার্যালয় বিষয়টি তদন্ত করছে। তাই এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

এদিকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুতে বরগুনার বাইনসামের্ত গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আশপাশের গ্রামবাসী নিহতদের খবর জানতে নিজাম হাওলাদারের বাড়িতে ভিড় করছে। অন্যদিকে শোকবিহ্বল স্বজনরা প্রতীক্ষায় রয়েছেন কখন আসবে স্বজনদের লাশ।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দুলাল জানান, ঢাকায় নিহতদের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে বরগুনা আনা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিজামউদ্দিন হাওলাদার পেশায় শ্রমিক। কয়েক বছর ধরে তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় থাকেন। দুই সপ্তাহ আগে নিজাম তাঁর অসুস্থ মাকে দেখতে স্ত্রী-সন্তানসহ গ্রামের বাড়ি আসেন।


মন্তব্য