kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চলতি বছরেই ই-জিপির অধীনে আসছে সব সংস্থা

নিখিল ভদ্র   

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) বাস্তবায়নে সারা বিশ্বের নজর কেড়েছে বাংলাদেশ। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ এ মুহূর্তে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে অবস্থান করছে।

এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সব সংস্থাকে ই-জিপিভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পুরো সরকারি কার্যক্রমের একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেইস তৈরি করা হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সম্প্রতি উত্থাপিত প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে গত পাঁচ বছরে ই-জিপির সফলতা, কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছে সরকারের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।

‘ইলেকট্রনিক টেন্ডার, ঝুট ঝামেলা নেই আর’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১১ সালের ২ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় ই-জিপি পোর্টালের উদ্বোধন করেন। ওই বছরের ২৩ আগস্ট ই-জিপিতে প্রথম দরপত্র আহ্বান করা হয়। আর চলতি বছরের মধ্যে সব সংস্থাকে ই-জিপিতে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, ই-টেন্ডারিং এবং ই-ব্যবস্থাপনা একীভূত করে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকরণের জন্য ই-জিপি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ই-জিপি চালুর ফলে বর্তমানে ঘরে বসে দরপত্র জমা দেওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে চারটি সরকারি সংস্থা—স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের দপ্তরে পাইলট ভিত্তিতে ই-জিপি চালু করা হয়। এই চারটি সংস্থা বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার ৫০ শতাংশ অর্থ ব্যয় করে থাকে। ওই চারটি সংস্থা শতভাগ (কার্য ও পণ্যের ক্ষেত্রে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত) দরপত্র ই-জিপিতে বাস্তবায়ন করছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বর্তমানে ১১১টি ক্রয়কারী সংস্থা এতে যুক্ত রয়েছে। ই-জিপি ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য হওয়ায় এতে যুক্ত হতে প্রায় সব সরকারি সংস্থা আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পর্যায়ক্রমে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত ও আধাস্বায়ত্তশাসিত এবং সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, সরকারি মালিকানাধীন পাবলিক লিমিটেড কম্পানিসহ সরকারি অর্থ ব্যবহারকারী এক হাজার ২৩৩টি ক্রয়কারী সংস্থাকে ই-জিপিভুক্ত করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দরপত্র দাখিল করা নিয়ে মারামারি, দরপত্র বাক্স ছিনতাই গতানুগতিক চিত্রের মধ্যে অনলাইনে দরপত্র প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয় বিগত মহাজোট সরকারের আমলে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রিফর্ম প্রজেক্ট-২-এর আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে স্থাপন করা হয় জাতীয় ই-জিপি পোর্টাল। আর গাইডলাইন জারি হয় ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ই-টেন্ডারিং, ই-চুক্তি বাস্তবায়ন ও ই-পারফরম্যান্স মেজারমেন্ট—এই তিনটি মূল অংশের সমন্বয়ে বাংলাদেশের ই-জিপি সিস্টেম সারা বিশ্বের মনোযোগ কেড়েছে। নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, জাম্বিয়া ও উগান্ডার প্রতিনিধিদল এ উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সফর করেছে। ই-জিপির সাফল্যের কারণে তৃতীয় রিজিওনাল পাবলিক প্রকিউরমেন্ট কনফারেন্স ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়া পাবলিক প্রকিউরমেন্ট নেটওয়ার্ক চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ।


মন্তব্য