বাস চলবে আলাদা লেনে-333031 | খবর | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


মন্ত্রিসভা বৈঠকে আইন আজ

বাস চলবে আলাদা লেনে

আশরাফুল হক রাজীব   

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কম খরচে দ্রুত ও উন্নত বাসভিত্তিক গণপরিবহন সেবা দিতে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি নির্মাণ করা হবে। অপেক্ষাকৃত চওড়া রাস্তাগুলোতে বাসের জন্য আলাদা লেন থাকবে। এ জন্য বিশেষ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ-সংক্রান্ত ‘বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) আইন, ২০১৫’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদনের জন্য আজ সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। বিষয়টি মন্ত্রিসভা বৈঠকের আলোচ্য সূচিতে রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদীর মধ্যে এই বিআরটি স্থাপন ও পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। এ ছাড়া উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের সম্মানী ও ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হতে পারে আজকের মন্ত্রিসভায়।

বিআরটি পরিচালনা করতে ২০১২ সালে গঠিত হয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ। এ-সংক্রান্ত খসড়া আইনটিতে বিআরটি এর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বিশেষ বিধানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিআরটি নির্মাণ বা পরিচালনা হতে পারে এমন কোনো স্থানে ক্ষতিপূরণ আদায়ের উদ্দেশ্যে ঘরবাড়ি বা স্থাপনা নির্মাণ করা হলে সংশ্লিষ্ট ভূমির মালিককে ক্ষতিপূরণ  দেওয়া হবে না। জমির শ্রেণি পরিবর্তন করলেও কোনো ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না। কর্তৃপক্ষের এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তপক্ষ সাত কর্মদিবসের মধ্যে আপিল করতে পারবে।

আইন অনুযায়ী বিআরটি নির্মাণ পরিচালনার জন্য লাইসেন্স নিতে হবে। তবে অনুমোদন সাপেক্ষে এই লাইসেন্স হস্তান্তরযোগ্য হবে। লাইসেন্স ছাড়া বিআরটি নির্মাণ, উন্নয়ন বা পরিচালনা করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। অনুমোদন ছাড়া লাইসেন্স হস্তান্তর করলেই একই পরিমাণ জরিমানা দিতে হবে।

বিআরটির ভাড়া নির্ধারণের জন্য নির্বাহী পরিচালকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি থাকবে। কমিটি বিআরটি পরিচালনা ব্যয় এবং জনসাধারণের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করে ভাড়া নির্ধারণের সুপারিশ করবে। বিআরটির প্রতিটি কোচে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, মহিলা, শিশু ও প্রবীণদের জন্য নির্ধারিতসংখ্যক আসন সংরক্ষিত থাকবে।

বিআরটি পরিচালনাকালে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তার পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবে। বিআরটি পরিচালনার ক্ষেত্রে সব যাত্রীর বীমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বীমা না করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা করা হবে।

বিআরটি নির্মাণ ও পরিচালনায় বাধা দিলে দুই বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অনুমতি ছাড়া বিআরটির সংরক্ষিত স্থানে প্রবেশ করে, তাহলে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। কোনো ব্যক্তি যদি বিআরটি বাস ও যাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্ন ঘটায়, তাহলে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে।

বিআরটির টিকিট বা পাস জাল করলে এবং অননুমোদিতভাবে টিকিট বা পাস বিক্রি করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। কারিগরি মান অনুসরণ না করলে লাইসেন্সধারীকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করা যাবে। শুরু থেকেই বিআরটিকে মোবাইল কোর্টের এখতিয়ারে নেওয়া হয়েছে।

বিআরটি ছাড়াও আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠকে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের সম্মানী ও ভাতা বৃদ্ধি করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। গত সপ্তাহে নিম্ন আদালতের বিচারকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মন্তব্য