অবৈধ দখলদার ১৫ চিকিৎসক!-333028 | খবর | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


হৃদরোগ ইনস্টিটিউট

অবৈধ দখলদার ১৫ চিকিৎসক!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসকদের জন্য নির্ধারিত সরকারি ৩২টি বাসভবনের মধ্যে ১৫টিতেই আছেন অবৈধ দখলদার। অবৈধভাবে বসবাসকারী সবাই চিকিৎসক হলেও বছরের পর বছর তাঁরা বাসা ভাড়া কিংবা পানি-বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করছেন না। অন্যদিকে সাধারণ অনেক চিকিৎসকই বাসা বরাদ্দ পাচ্ছেন না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দফায় দফায় নির্দেশনা দেওয়া হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে সাধারণ চিকিৎসকদের মধ্যেই। যদিও মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একাধিকবার তদন্তের মাধ্যমে অবৈধভাবে বসবাসকারী চিকিৎসকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সর্বশেষ গত মাসেও মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত কার্যকর করা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই হাসপাতালের সরকারি বাসা বরাদ্দ না পাওয়া একাধিক চিকিৎসক কালের কণ্ঠকে জানান, অবৈধভাবে সরকারি বাসা দখল করে রাখা চিকিৎসকদের মধ্যে কয়েকজন প্রভাবশালী হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে কিংবা বাসা ভাড়া বা বিল আদায় না করে বরং কৌশলে তাঁদের সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। অবৈধভাবে বসবাসকারীদের মধ্যে ওই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসকসহ কয়েকজন সহকারী অধ্যাপক, সহকারী রেজিস্ট্রার, কয়েকজন মেডিক্যাল অফিসারও রয়েছেন। আবার কয়েকজন অন্যের নামে বরাদ্দকৃত বাসায় বসবাস করছেন দিনের পর দিন।

আবাসিক বাসভবনে বসবাসকারী ডাক্তারদের একটি তালিকাপত্র খুঁজে দেখা যায় হাসপাতালের আবাসিক সার্জন (আরএস) ডা. নির্মল কান্তি দে’র নামে ২০১২ সালের মার্চ থেকে একটি বাসা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু ওই বাসায় বসবাস করছেন সুপ্রিয় সরকার নামের আরেক মেডিক্যাল অফিসার। আবার ডা. নির্মল কান্তি নিজেও আরেক বাসায় থাকেন অবৈধভাবে। এদিকে আবাসিক চিকিৎসক (আরপি) ডা. পিযুষ বিশ্বাসের নামে কোনো বাসা বরাদ্দ না থাকলেও তিনি ৫/এ ভবনের ষষ্ঠ তলার একটি ভবনে অবৈধভাবে বসবাস করছেন। তালিকায় অবৈধভাবে বসবাসকারী ১৫ চিকিৎসকেরই নাম রয়েছে। তাঁরা কেউ ভাড়া দেন না বা পানি-বিদ্যুতের বিলও জমা দেন না বলে জানায় হাসপাতাল সূত্র।

নিজের নামে বরাদ্দকৃত বাসায় নিজে না থেকে অবৈধভাবে অন্যকে থাকতে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আবাসিক সার্জন (আরএস) ডা. নির্মল কান্তি দে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলব না। দরকার হলে হাসপাতালের অফিস থেকে জেনে নিন।’

এদিকে আরপি ডা. পিযুষ বিশ্বাসের ফোনে বারবার চেষ্টা করেও সংযোগ না পাওয়ায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা যায়নি। অন্যদিকে পুরো বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এস টি আবু আজম প্রশ্ন শুনেই কোনো জবাব না দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছন্ন করে দেন। পরে বহুবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি।

মন্তব্য