kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


লাতিন আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের বাইরে এখন ব্যবসায়ীদের দৃষ্টি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ৯ জন রাষ্ট্রদূত গতকাল রবিবার ঢাকায় এক সেমিনারে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের সম্ভাব্য উপায়ের পাশাপাশি ওই অঞ্চলে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও এ দেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সুবিধা কাজে লাগাতে এগিয়ে আসতে রাষ্ট্রদূতদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ঢাকার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিআইআইএসএস আয়োজিত ‘লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক : সম্ভাবনা উন্মুক্তকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে আলোচনায় এসব সম্ভাবনার বিষয় উঠে আসে। গতকাল রবিবার অনুষ্ঠিত এ সেমিনারের আলোচনায় চারটি পর্বে লাতিন আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষে মানুষে যোগাযোগ, অর্থনৈতিক ও ব্যবসা সম্ভাবনা, গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক উন্নয়ন ইস্যুগুলোতে একসঙ্গে কাজ করা এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার উপায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।

সেমিনারের একটি পর্বে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মাতলুব আহমাদ বলেন, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা এখন ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও সুযোগ পাওয়ার চেষ্টা করছেন। লাতিন আমেরিকার দেশগুলো এ ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় স্থান হতে পারে।

বিআইআইএসএস মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম আবদুর রহমান বলেন, লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে কেবল ব্রাজিল ও মেক্সিকোতে বাংলাদেশের দূতাবাস রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে কেবল ব্রাজিলের দূতাবাস রয়েছে। দূতাবাস কম থাকার মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হচ্ছে যে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে সম্ভাবনা রয়েছে তা এখনো অনুসন্ধান করা হয়নি।

বিআইআইএসএস চেয়ারম্যান মুনশি ফয়েজ আহমেদ বলেন, লাতিন আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ মূলত সংস্কৃতি ও বাণিজ্যে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লাতিন আমেরিকা সফরের মাধ্যমে ওই অঞ্চলের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়েছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, লাতিন আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের যে সম্ভাবনা রয়েছে তা কাজে লাগানোর এখনই উপযুক্ত সময়।

বাংলাদেশে ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রের অনাবাসী রাষ্ট্রদূত ফ্র্যাঙ্ক হ্যান্স ক্যাস্টেলন্স বলেন, লাতিন আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক পিছিয়ে থাকার ক্ষেত্রে যোগাযোগকে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু এটি এখন আর প্রতিবন্ধকতা নয়। কোনো ট্রানজিট ভিসারও প্রয়োজন হয় না। ভেনিজুয়েলার অনাবাসী রাষ্ট্রদূত আগুস্তো মন্টিয়েল লাতিন আমেরিকা ও বাংলাদেশের পারস্পরিক গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর জোর দেন।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, আগামী বছর বাংলা একাডেমির বইমেলার সময় সেমিনারে অংশ নেওয়ার জন্য লাতিন আমেরিকান সাহিত্যিক ও গবেষকদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, লাতিন আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে তিনটি বড় বাধা রয়েছে। এগুলো হলো—দূরত্ব, অপরিচিতি ও প্রভাব।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সৈয়দ সাদ আন্দালিবের সঞ্চালনায় সেমিনারের দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশে কলম্বিয়ার অনিবাসী রাষ্ট্রদূত মনিকা লাঞ্জেটা মুটিস বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর আলোচনা শুরু করতে হবে। মানুষে মানুষে যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যবধান জানতে হবে ও তা পূরণ করতে হবে।

বাংলাদেশে মেক্সিকোর অনিবাসী রাষ্ট্রদূত মেলবা প্রিয়া বলেন, ১৯৭১ সালেই বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর পরিচিতি।


মন্তব্য