kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধনে তৃণমূলের যত প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধনে তৃণমূলের যত প্রস্তাব

কাউন্সিল সামনে রেখে গঠিত বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধন উপকমিটির বৈঠকে দলের বিভিন্ন পর্যায় থেকে আসা প্রস্তাবের লিখিত কপি উপস্থিত সদস্যদের হাতে দিয়ে আগামী সোমবার মতামত দিতে বলা হয়েছে। গতকাল শনিবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ মতামত চান কমিটির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম।

সঙ্গে দেওয়া হয়েছে বিএনপির বর্তমান গঠনতন্ত্রের একটি করে কপি। ওই দিন আবারও এ কমিটির বৈঠক হবে।

দলের বিভিন্ন পর্যায় থেকে লিখিতভাবে যেসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—এক নেতার এক পদ অর্থাৎ একজন নেতা একটির বেশি পদে থাকতে পারবেন না। বিষয়ভিত্তিক উপকমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যসংখ্যা কমিয়ে আনার প্রস্তাবও করা হয়েছে। বর্তমানে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা ৩৮৬। এ ছাড়া দলে কো-চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টির একটি প্রস্তাব এসেছে তৃণমূল পর্যায় থেকে। তবে স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের তোলা এ ধরনের একটি প্রস্তাব বিএনপির সর্বশেষ স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নাকচ হয়ে গিয়েছিল।

এ ছাড়া দলে যোগদানের পর অন্তত পাঁচ বছর অতিক্রান্ত না হলে কোনো ব্যক্তিকে দলের নির্বাহী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত না করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাব এসেছে আওয়ামী লীগের আদলে যুব ও মহিলা দল গঠনের। এ ছাড়া এক-এগারোর সময় তৃণমূলে কাজ করেছেন এমন নেতাদের পক্ষ থেকে তৃণমূল দল গঠনের প্রস্তাব এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদ দলের স্থানীয় নেতাদের দেওয়ার পক্ষে প্রস্তাব করা হয়েছে। বলা হয়েছে, জেলা, উপজেলা ও পৌর কমিটির দায়িত্ব ঢাকায় বসবাসকারী কোনো নেতাকে দেওয়া যাবে না।

মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলসহ বিএনপির প্রতি সহমর্মী বিভিন্ন সংগঠন বিএনপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

সূত্র মতে, বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্য দলের সম্পাদনা পরিষদে জনপ্রশাসন সম্পাদক, এনজিওবিষয়ক সম্পাদকসহ বিষয়ভিত্তিক সম্পাদক পদ সৃষ্টির সুপারিশ করেছেন। তবে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতা বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদকে ভাগ করে রাজনীতিকদের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বাকিদের পরামর্শকমণ্ডলীতে রাখার পক্ষে প্রস্তাব দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদটি থাকা না থাকার পক্ষে কোনো প্রস্তাব আসেনি। ফলে ওই পদটি গঠনতন্ত্রে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

জানা গেছে, উপকমিটির চূড়ান্ত করা প্রস্তাবগুলো দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হবে। এর পর চেয়ারপারসন সিদ্ধান্ত নেবেন কোনগুলো কাউন্সিলে উত্থাপিত হবে। কাউন্সিলরদের ভোটে এগুলো পাস হলে প্রস্তাবগুলো গঠনতন্ত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।


মন্তব্য