৩৯ বছর পর দেহাবশেষ উত্তোলন-332649 | খবর | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


ছিটমহলবাসী মুক্তিযোদ্ধা হত্যা

৩৯ বছর পর দেহাবশেষ উত্তোলন

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নে বিলুপ্ত ভারতীয় ছিটমহল শালবাড়ীতে ৩৯ বছর আগে খুন হওয়া মুক্তিযোদ্ধা আজিমুল হকের দেহাবশেষ গতকাল শনিবার উত্তোলন করা হয়েছে। গত ২৯ ডিসেম্বর হত্যা মামলা দায়ের হওয়ার পর আদালতের নির্দেশে তাঁর দেহাবশেষ উত্তোলন করা হলো।

১৯৭১ সালে ভারতীয় ছিটমহলের অধিবাসী হয়ে বাংলাদেশের পক্ষে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন আজিমুল হক। মুক্তিযুদ্ধের পাঁচ বছর পর ১৯৭৬ সালে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তিনি ছিটমহলের অভ্যন্তরে প্রতিপক্ষের হাতে খুন হন। এ ঘটনায় তাঁর স্বজনরা ভারতীয় ছিটের অধিবাসী হওয়ায় বাংলাদেশের আদালতে মামলা করতে পারেনি। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডে থাকায় নিজ দেশ ভারতের আদালতেও বিচার চাইতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত গত বছর ছিটমহল বিলুপ্ত হয়ে বাংলাদেশের অংশ হয়ে যাওয়ায় তারা এই মামলা দায়ের করলে।

বিলুপ্ত ছিটমহল শালবাড়ী গ্রামের আরেক মুক্তিযোদ্ধা আছিম উদ্দিন বলেন, ভারতীয় ছিটমহলের বাসিন্দা হয়ে আজিমুল বৃহত্তর দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধ করেছিলেন। তাঁর বিষয়ে সবাই জানত। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর সনদ (এফএফ-১৩৬/০৭) এবং ভারতীয় গেজেটেও (নং-৩৭৩৮৮) তাঁর নাম রয়েছে।

 

পুলিশ সুত্র জানায়, নিহত মুক্তিযোদ্ধা আজিমুলের ভাই আরিফুল ইসলাম গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর পঞ্চগড়ের আমলি আদালত-৩ এই মামলা করেন। এতে দেবীগঞ্জের অমরখানা গ্রামের সহোদর আব্দুর রহমান ও খলিলুর রহমান, আব্দুর রহমানের ছেলে বোদা পৌর এলাকার জুম্মাপাড়া মহল্লার রফিকুল ইসলামসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা একসময় ওই ছিটমহল ও আশপাশে বাস করলেও বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছে। মামলাটি দায়েরের পর আদালতের বিচারক বোদা থানার ওসি অভিযোগটি এজাহার হিসেবে রেকর্ডভুক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং দেহাবশেষ উত্তোলন ও পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর সকালে নিজেদের জমিতে চাষ করতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন জমিটি তাদের দাবি করে হামলা চালায়। পরদিন আজিমুল অচেতন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল সকালে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী হাকিম আবু আউয়াল, থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ ও পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রাজিউল করিম রাজু প্রমুখ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে স্বজনরা মুক্তিযোদ্ধা আজিমুল হকের কবর শনাক্ত করে। পরে কবর খুঁড়ে দেহাবশেষের নমুনা সংগ্রহ করেন তদন্ত কর্মকর্তারা। পরে তার উপাদান পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে রাখা হয়।

মন্তব্য