kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

শলুক জিরা

ফখরে আলম, যশোর   

৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শলুক জিরা

যশোর, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলায় নতুন এক মসলার চাষ শুরু হয়েছে। কৃষকরা বলছে, এর নাম ইরানি জিরা।

তবে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ফসলটির নাম শলুক। দেখতে ও গুণাগুণ জিরার মতোই। মসলা হিসেবে এটি ব্যবহার করা হয়। নতুন এ ফসলকে ঘিরে কৃষকের মধ্যে উৎসাহ দেখা দিয়েছে। ইরানি জিরা ভাগ্য ফেরাবে এমন প্রত্যাশায় তারা ক্রমশই ঝুঁকছে এ ফসল আবাদে।

সরেজমিন যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ক্ষেত্রপালা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ইরানি জিরার ক্ষেতে হলুদ ফুলের বাহার। তিন-চার ফুট লম্বা গাছে ইতিমধ্যে ছোট ছোট জিরা ধরেছে। মৌমাছির দল জিরার ক্ষেতে উড়ে বেড়াচ্ছে। গ্রামের মোসলেম উদ্দিন তাঁর ছয় শতক জমির ইরানি জিরা নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছেন। অন্য কৃষকরাও তাঁর ক্ষেতে এসে নতুন এ মসলা সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছে।

মোসলেম উদ্দিন বললেন, ‘আমি নড়াইলের ভোমাখালী গ্রামের রেজার কাছ থেকে ১০০ গ্রাম বীজ দুই হাজার টাকায় কিনে কার্তিক মাসে ছয় শতক জমিতে আবাদ করি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমার জিরাক্ষেত ফুলে ছেয়ে গেছে। মনে করছি, এ পরিমাণ জমি থেকে এক মণের বেশি জিরা হবে। ’

জানা যায়, গত বছর ইরান থেকে বীজ এনে ভোমাখালী গ্রামের রেজা ৪৫ শতক জমিতে ইরানি জিরার চাষ করেন। এ ছাড়া বাঘারপাড়ার জামদিয়া ও বাঘারপাড়া পৌর এলাকায় কয়েকজন কৃষক ইরানি জিরা চাষ করেছেন। মাগুরার শালিখা উপজেলার হরিশপুর গ্রামের নজরুল সাত শতক, পুলুম গ্রামের মুকুল হোসেন চার শতক, নড়াইলের চরশামুকখোলা গ্রামের কৃষক যদু আলী, রামকান্তপুর গ্রামের কৃষক ওসমান আলী, লাহুড়িয়া গ্রামের শাকিল, রাহুলসহ আরো কয়েকজন কৃষক ইরানি জিরার চাষ করেছে। মধুমতি নদীর চরাঞ্চলে এখন এ নতুন ফসলের ক্ষেতে হলুদের ঢেউ খেলে যাচ্ছে।

রামকান্তপুর গ্রামের কৃষক ওসমান আলী জানান, তিনি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার রুদ্রবানা গ্রামের শামসুর রহমানের কাছ থেকে ৫০০ টাকায় ১০০ গ্রাম বীজ কিনে সাত শতক জমিতে লাগিয়েছেন। ইতিমধ্যে তাঁর ক্ষেতে গাছে গাছে ফুল এসেছে। জিরাও ধরেছে। সাত শতক জমিতে এ মসলা আবাদে কয়েক হাজার টাকা লাভের প্রত্যাশা করছেন তিনি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মাগুরা আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যশোর অঞ্চলে যে জিরার চাষ করা হয়েছে তার নাম শলুক। এটিও জিরা প্রজাতির ফসল। মসলা হিসেবে খাওয়া হয়। ঝিরঝিরে বাতাস, মেঘমুক্ত আকাশ আর পর্যাপ্ত সূর্যালোক থাকলে ফসলটি ভালো ফলে। নোয়াখালীর চরাঞ্চল, নড়াইলের লোহাগড়া, শরীয়তপুরের জাজিরা, নরসিংদীর চরাঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে জিরাজাতীয় এ ফসলের আবাদ হচ্ছে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফসলটির ফলন ভালো হয়েছে। ’


মন্তব্য