‘গণতন্ত্র মানে রাস্তায় বাস পোড়ানো-332357 | খবর | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


‘গণতন্ত্র মানে রাস্তায় বাস পোড়ানো নয়’

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘গণতন্ত্র মানে রাস্তায় বাস পোড়ানো নয়’

সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব। একই সঙ্গে তিনি শেখ হাসিনার সরকারের পাশে থাকার কথাও জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ভারত-বাংলাদেশ সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে দুই দেশের মন্ত্রী, অর্থনীতিবিদ, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী নেতা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এ সংলাপে অংশ নেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনকে (দিল্লি) সঙ্গে নিয়ে ‘ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ’ এ সংলাপের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রতিনিধিদলে রাম মাধব ছাড়াও ছিলেন বিজেপি মুখপাত্র ও সংসদ সদস্য এম জে আকবর, সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি, ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের পরিচালক অলক বনসাল ও স্বপন দাশগুপ্ত।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ইন্ডিয়া চ্যাপ্টার) সত্যম রায়

চৌধুরী বক্তব্য দেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের সমন্বয়কারী এ এস এম শামসুল আরেফিন। 

বিজেপি সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষায় জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছেন তা বেশ প্রশংসনীয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার এই প্রচেষ্টাকে আমরা সর্বাত্মক সমর্থন জানাই। এটি কেবল কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য আমি বলছি না; বরং গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের দায় থেকে বলছি। আমরা উভয় দেশ ভালোভাবেই আমাদের সংবিধান প্রণয়ন করেছি। এই সংবিধান আমাদের রক্ষা করতে হবে।’

রাম মাধব বলেন, ‘গণতন্ত্র মানে স্বাধীনতা। তবে এ স্বাধীনতা যা খুশি তাই করার নয়। সাংবিধানিক কাঠামোর আওতায় আমরা স্বাধীনতা পাই। স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে আমরা সাংবিধানিক ব্যবস্থা ধ্বংস করব, গণতন্ত্র ধ্বংস করব। এটি আমাদের বাস পোড়ানো, সরকারি সম্পত্তি পোড়ানো, সহিংসতা বাধানোর অনুমতি দেয় না। গণতন্ত্র রক্ষায় অবশ্যই শান্তি প্রয়োজন। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুরক্ষার প্রক্রিয়ায় আমরা পুরোপুরি আপনাদের পাশে আছি।’

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পর্যালোচনা করতে গিয়ে রাম মাধব বলেন, ‘আমরা প্রকৃতিগতভাবেই বন্ধু, মিত্র। আমরা আলাদা হতে পারি না। আমরা আপনাদের প্রতিবেশী। আমরা বড় দেশ হতে পারি; কিন্তু বড় ভাইয়ের মতো খবরদারি করি না। বরং আমরা পরস্পরের অংশীদার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিবেশীদের বিষয়ে ভাবনার মূলে রয়েছে অংশীদারি।’

গত জুন মাসে ঢাকা সফরে নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের অংশবিশেষ তুলে ধরে রাম মাধব বলেন, ‘আমরা পাশাপাশি আছি, পাশাপাশি থাকব। একসঙ্গে চলব, একসঙ্গে কাজ করব এবং একসঙ্গেই সমৃদ্ধি অর্জন করব।’ আগামীকাল অনুষ্ঠেয় এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ ও ভারতের মুখোমুখি হওয়া প্রসঙ্গে রাম মাধব বলেন, এটি কোনো যুদ্ধ হবে না। তিনি আশা করেন, এটি উপভোগ্য খেলা হবে।

রাম মাধব আরো বলেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য নিরাপত্তা খুবই জরুরি। নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের চমত্কার সূচনা হয়েছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাণিজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো ধরনের অবিচার করবে না ভারত।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ভারতের বর্তমান হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা প্রসঙ্গে বিজেপি সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব বলেন, হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। হাইকমিশনার হওয়ার আগে তিনি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগের দায়িত্বে ছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে কোনো কিছুই বাধা হতে পারে না। পানিকে স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আশা করেন, দুই দেশ এ ক্ষেত্রেও সমাধানে পৌঁছতে পারবে। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ আমরা সমন্বিতভাবে দূর করেছি।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘২০১১ সালে দুই দেশের সম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুত তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে আমরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিকে তাকিয়ে আছি। আমরা আশা করি প্রস্তাবিত গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণে ভারত যুক্ত হবে। এ ছাড়া সব অভিন্ন নদীর পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা সমন্বিতভাবে মোকাবিলার জন্য অববাহিকাভিত্তিক অভিন্ন ব্যবস্থাপনা চাই। এ ক্ষেত্রে আমরা ভারতের সহযোগিতা চাই।’

অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, সাংস্কৃতিক বন্ধন, শিল্প, সাহিত্যের টান অভিন্ন। দুই দেশ কেবল স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অভিন্ন ইতিহাসের ধারক ও বাহক নয়, দুই দেশের জনগণের মধ্যে অভিন্ন চেতনা ও পারিবারিক বন্ধনও আছে। ২০১৫ সালকে বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য মাইলফলক হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্তব্য