kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে ‘হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন’ সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর আসাদ এভিনিউয়ের সিবিসিবি মিলনায়তনে হিন্দু বিবাহ আইন প্রণয়নে নাগরিক কমিটি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন হাহকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ছবি বিশ্বাস এমপি ও উন্নয়ন গবেষক প্রতিমা পাল। আলোচনায় অংশ নেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, বাঁচতে শেখার নির্বাহী পরিচালক অ্যাঞ্জেলা গোমেজ প্রমুখ।

বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ বলেন, ‘হিন্দু ধর্মের সনাতনপন্থীরা এখনো নারীর সমান অধিকার ঠিকমতো মেনে নিতে পারছেন না। তাঁরা অনেক যুক্তি দেখিয়েছেন।

ত্রয়োদশ শতাব্দীতে যখন হিন্দু দায়ভাগা আইন প্রণীত হয়েছিল, সেটিতে হিন্দু বিধবা নারীদের সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ১৮৭২ সালে আইন করে হিন্দু বিধবাদের সম্পত্তির অধিকার দেওয়া হয়। ভারতবর্ষে ১৯৫৫ সালে হিন্দু বিবাহ আইন ও হিন্দু সম্পত্তি আইন প্রণীত হয়েছে। সেই আইনেই নারী-পুরুষের সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে। ’

বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ আরো বলেন, বর্তমান হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইনে বিয়ে নিবন্ধন ঐচ্ছিকের বিধান রাখা হয়েছে। সাফল্যের চূড়ায় উঠতে গেলে অনেক সিঁড়ি অতিক্রম করতে হয়। হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইনটিও একসময় সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাবে এবং এই আইনে বিবাহ নিবন্ধন আবশ্যিক করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ছবি বিশ্বাস এমপি বলেন, পৃথিবীর বেশ কিছু উন্নত দেশে বিবাহিত হিসেবে ভিসা পেতে বিয়ে নিবন্ধনের কপি জমা দিতে হয়। জন্ম, মৃত্যু ও বিবাহ নিবন্ধন একটি দেশের যেকোনো পরিসংখ্যানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখন যুগের দাবি, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা।

শাহীন আনাম বলেন, ২০১২ সালে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন প্রণীত হয় এবং ২০১৩ সালে সেই আইনের বিধিমালা করা হয়। আইন ও বিধিমালাতে নিবন্ধনের বিষয়টি ঐচ্ছিক করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই আইন প্রণীত হলে হিন্দু নারীদের অধিকার নিশ্চিত হবে। ’

অনুষ্ঠানস্থলে দেড় শ জুটি তাঁদের বিবাহ নিবন্ধন সম্পন্ন করেন।


মন্তব্য