হাসপাতালে পড়ে থাকা শিশুটি মারাই গেল-332255 | খবর | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০১৬। ১৭ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৯ জিলহজ ১৪৩৭


হাসপাতালে পড়ে থাকা শিশুটি মারাই গেল

রাজধানীতে দুই নবজাতক ও এক যুবকের লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জন্মের পর নবজাতকটিকে ভর্তি করা হয়েছিল রাজধানীর ধানমণ্ডিতে জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে। শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যায় ভুগছিল ছেলেশিশুটি। জসিম ও শিল্পী নামে দুজন বাবা-মা পরিচয়ে তাকে নিয়ে গিয়েছিলেন হাসপাতালে। সেখানে শিশুটির পরিচর্যাও করেন তাঁরা। তবে কিছুদিন পরই ওই সন্তান রেখে পালিয়ে যায় কথিত দম্পতি। এরপর আর শিশুটির কোনো স্বজনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে হাসপাতালে নার্সদের পরিচর্যায় শিশুটির চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিল কর্তৃপক্ষ। অবশেষে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে সেও ‘পালিয়েছে’ না ফেরার দেশে।

শিশুটির বয়স হয়েছিল ৪১ দিন। তার পরিচয় শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে মোহাম্মদপুরের কাঁটাসুর এলাকার একটি বাসা থেকে এক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কাওসার নামের ওই শিশুটি তার বাবার অবহেলায় অসুস্থ হয়ে মারা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন মা। এ শিশুর লাশও ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে গতকাল ভাটারার নূরেরচালার ইদ্রিস আলী কবরস্থান থেকে আরেক নবজাতকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অচেনা এই শিশুটির মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। এ ছাড়া গতকাল দুপুরে ডেমরার বামৈল এলাকায় খাল থেকে এক অচেনা যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

ধানমণ্ডি থানার এসআই রিপন কুমার সাহা বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতাল থেকে ৪১ দিন বয়সের শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। জসিম ও শিল্পী নামে দুজন নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে এক নবজাতককে জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করেন গত ২৫ জানুয়ারি। শিশুটি তাঁদের সন্তান বলে দাবি করে তাঁরা জানান, তাঁদের বাসা ৮৮/৩ সানারপাড়। তাঁদের ছেলে সন্তানটি শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যায় ভুগছিল। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে রেখে তার চিকিৎসা করা হচ্ছিল। জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানায়, প্রায় তিন সপ্তাহ তারা শিশুটিকে দেখাশোনা করার পর হঠাৎ কোথায় চলে যান সেই দম্পতি। তখন থেকে হাসপাতালের নার্সরা শিশুটির দেখাশোনা করছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেই মা-বাবাসহ শিশুটির কোনো স্বজনের খোঁজ পায়নি। চিকিৎসাধীন শিশুটি গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মারা যায়। পরে পুলিশকে ঘটনাটি জানানো হয়। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ধানমণ্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে।

এদিকে মোহাম্মদপুর থানার এসআই মেসবাহ উদ্দিন বলেন, গত বুধবার রাতে মোহাম্মদপুর কাঁটাসুর গলির ৬/১০/এ নম্বর বাসা থেকে কাওসার নামে পাঁচ দিনের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুর মা কুমকুম অভিযোগ করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকরা ছেলেটিকে এনআইসিতে রাখার পরামর্শ দেন। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কথা বলে তাঁর স্বামী সাজ্জাদ তাকে মোহাম্মদপুরে বাসায় নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির মৃত্যু হয়। স্বামীর অসহযোগিতার কারণেই তাঁর সন্তানের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মন্তব্য