দেওয়ানি মামলা শুরুর আগে এডিআর প্রয়োগ-332250 | খবর | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


দেওয়ানি মামলা শুরুর আগে এডিআর প্রয়োগ বাধ্যতামূলক

রেজাউল করিম   

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দেওয়ানি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে দেওয়ানি কার্যবিধি-১৯০৮ সংশোধন করে তাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান (এডিআর) যোগ করা হয় ২০০৩ সালে। শুধু পারিবারিক ও অর্থঋণ মামলার ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগে বিচারককে ঐচ্ছিক ক্ষমতা দেওয়া হয়। এডিআর বাধ্যতামূলক করতে আরো দুইবার দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধন করা হয়। সর্বশেষ ২০১২ সালের সংশোধনীতে সব ধরনের দেওয়ানি মামলায় এডিআর প্রয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়। এই বাধ্যতামূলকের বিধান কবে থেকে কার্যকর হবে, তা সরকারের গেজেটে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানোর কথা ছিল। দীর্ঘ চার বছর পর সেই প্রজ্ঞাপন জারি করল আইন মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি জারি করা প্রজ্ঞাপনে আইন মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি থেকে দেওয়ানি কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা’ অর্থাৎ সব দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে এডিআর কার্যকর করা বাধ্যতামূলক হলো। ওই প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির নির্দেশে সই করেন আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা।

আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, দেওয়ানি কার্যবিধিতে সব ধরনের দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে এডিআর প্রয়োগ বাধ্যতামূলক। তিনি বলেন, এই বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক মামলার আগে বা এখন যেসব মামলা চলমান রয়েছে সেগুলোতেও এডিআর প্রয়োগ করতে পারবেন। তবে মামলা শুরুর আগে অবশ্যই বাদী-বিবাদীকে ডেকে আলোচনার মাধ্যমে তাদের বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া কোনো দেওয়ানি মামলার আপিল পর্যায়েও এডিআর প্রয়োগ করতে পারবেন বিচারক। বিকাশ কুমার সাহা আরো বলেন, ২০১২ সালে এডিআর বাধ্যতামূলক করে দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধন করলেও সেখানে বলা ছিল, এটি প্রয়োগ হবে সরকারের গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে। এখন গেজেট হলো। ফলে দেওয়ানি মামলা শুরুর আগে এখন থেকে এডিআর বাধ্যতামূলক।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধনের মাধ্যমে সাধারণ দেওয়ানি আদালতে পারিবারিক ও অর্থঋণ মামলায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তিতে মধ্যস্থতা ও সালিসির বিধান প্রণয়ন করতে যথাক্রমে ফৌজদারি কার্যবিধিতে ৮৯ক ও ৮৯খ ধারা সংযোজন করা হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে দেওয়ানি আদালতের বিচারকদের ঐচ্ছিক ক্ষমতা দেওয়া হয়। এই বিধান দুটিতে বলা হয়, বিচারক চাইলে কোনো মামলায় আরজি ও লিখিত জবাব পেশের পর শুনানি বন্ধ রেখে নিজেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসা করতে পারবেন অথবা বিরোধটি মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য পক্ষগুলোর নিযুক্ত আইনজীবীদের কাছে বা পক্ষগুলোর কাছে বা জেলা জজের গঠিত প্যানেলের কোনো মধ্যস্থতাকারীর কাছে পাঠাবেন। ২০০৬ সালে দেওয়ানি কার্যবিধিতে আবারও সংশোধনী আনা হয়, যাতে দেওয়ানি মামলা আপিল আদালতেও মধ্যস্থতা করা যায়। সংযোজন করা হয় ধারা ৮৯গ। আদালতকে প্রদত্ত এ ক্ষমতা ঐচ্ছিক হওয়ায় এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের অসহযোগিতা ও প্যানেল গঠন না করায় এ ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি। ফলে বাধ্যতামূলকভাবে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। পরে ২০১২ সালে দেওয়ানি কার্যবিধিতে আরেক দফা সংশোধনী এনে ধারা ৮৯ক ও ৮৯গ সংশোধন করে বিচারিক আদালত ও আপিল আদালতে মধ্যস্থতার বিধানকে বাধ্যতামূলক করা হয় এবং সংযোজন করা হয় ধারা ৮৯ঘ ও ৮৯ঙ। ধারা ৮৯ঘ-তে বিধান করা হয় যে, মামলার পক্ষদ্বয় চাইলে ২০১২ সালের এ সংশোধনীর পূর্বে দায়ের হওয়া বিচারাধীন মামলা বা আপিল মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য আদালতে আবেদন করতে পারবে এবং আদালত আইন অনুযায়ী তা মধ্যস্থতা করবেন।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অব্দুল বাসেত মজুমদার বলেন, ‘এডিআর বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে অনেক জনপ্রিয়। আমাদের সরকারও সেটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু এই এডিআর সম্পর্কে আইনজীবী ও বিচারকদের ভালোভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে এই পদ্ধতি কী পরিমাণ বাস্তবায়িত হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণের। সাধারণ জনগণের মাঝেও এডিআরের বিষয় প্রচার করতে হবে। এ ছাড়া এডিআর বাস্তবায়নে কী কী বাধা রয়েছে সেগুলো খুঁজে বের করে এর সমাধান করতে হবে সরকারকে। তাহলে বিচারপ্রার্থীরা এর সুফল পাবে।’

মন্তব্য