kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হবিগঞ্জে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ সম্মেলন শুরু

‘সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকাতে হবে’

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকাতে হবে’

গতকাল হবিগঞ্জে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ সম্মেলন উদ্বোধনের পর বক্তব্য দেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. আসলাম আলম। ছবি : কালের কণ্ঠ

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. আসলাম আলম বলেছেন, অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকাতে দেশে ৯০ শতাংশ পেপার ওয়ার্ক (আইন ও দাপ্তরিক বিধিবিধান) সম্পন্ন হলেও আসল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এর বাস্তবায়ন। এ ক্ষেত্রে রেগুলেটরি ফ্রেইম ওয়ার্ক বাস্তবায়ন না হলে বাংলাদেশ কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে, উন্নত দেশের স্বপ্ন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

তাই ওয়াজ-নসিহত বন্ধ করে সময় এসেছে অ্যাকশনে যাওয়ার। সুস্পষ্ট জ্ঞানের অভাবেই বাণিজ্যভিত্তিক মানি লন্ডারিংয়ের ব্যাপকতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি ব্যাংকগুলোকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।

গতকাল শুক্রবার হবিগঞ্জে দেশের ৫৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ১২তম প্রধান মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তাদের সম্মেলন ২০১৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. আসলাম আলম এসব কথা বলেন। জেলার বাহুবলে অবস্থিত দ্য প্যালেস রিসোর্টে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামীকাল রবিবার সম্মেলন শেষ হবে। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘বাংলাদেশ থেকে অবৈধ তহবিল প্রবাহ বন্ধ : বাণিজ্যভিত্তিক মানি লন্ডারিংয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ’।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান আবু হেনা মো. রাজী হাসান। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের উপ-প্রধান নওশাদ আলী চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মো. রেজা হাসান, বাংলাদেশ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আনিছ এ খান, ব্যাংক এশিয়ার এএমডি আমিনুল ইসলাম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজর দেবপ্রদ দেবনাথ। কর্মশালায় ১৫০ জন ব্যাংকার অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আসলাম আলম বলেন, দেশের বিকাশমান টেকসই অর্থনীতি নির্মাণ এবং ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও স্থিতিশীল সমাজ গঠনের অন্তরায় হচ্ছে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন। এটি স্বাধীনতার মূল চেতনারও পরিপন্থী। দেশের এই প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য প্রয়োজন অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নসংশ্লিষ্ট আইনগুলোর কার্যকর প্রয়োগ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) কঠোর হতে হবে। প্রয়োজনে ব্যাংকারদের অপসারণ ও ব্যাংককে জরিমানা করতে হবে।

অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নে বাংলাদেশকে হাই রিস্ক দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের কঠোর ভূমিকার কারণেই বাংলাদেশের নাম সাদা তালিকায় এসেছে। তা না হলে বাংলাদেশকে মিয়ানমার, ইরান আর উত্তর কোরিয়ার মতো বেকায়দায় পড়তে হতো। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে অনেক টাকা সুইস ব্যাংকে পাচার হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা আর মালয়েশিয়ায় টাকা পাচার করে ভিসা সংগ্রহ করছেন অনেকেই। এ ক্ষেত্রে টাকা পাচার হয় বাণিজ্যের মাধ্যমে। তাই এলসি ইস্যুর সময় ব্যাংকারদের ব্যবসায়ীর পুরো প্রোফাইল যাছাই করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান আবু হেনা মো. রাজী হাসান মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে ব্যাংকগুলোকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন, উন্নয়নশীল দেশ থেকে বৈধ পথের অপব্যবহারের মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার হয়। জিএফআই ও বিশ্বব্যাংকের তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, পাচার করা অর্থের বেশির ভাগ—অর্থাৎ ৮০ শতাংশের বেশি বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে পাচার হয়। এ ক্ষেত্রে আমদানি ও রপ্তানিতে দাম নির্ধারণে কারসাজির বিভিন্ন দিক তিনি তুলে ধরেন।


মন্তব্য