রহস্যঘেরা মৃত্যু মুক্তিযোদ্ধার-331987 | খবর | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


রহস্যঘেরা মৃত্যু মুক্তিযোদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় নূরুল ইসলাম (৭০) নামে গোপালগঞ্জের এক প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশে লুকাস মোড় এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নূরুল ইসলাম কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছেন বলে সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে পুলিশ। তাঁর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্বজনরা বলছে, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বন্ধ হয়ে যেতে পারে এমন শঙ্কায় ছিলেন নূরুল ইসলাম। তবে গোপালগঞ্জ থেকে তাঁর ঢাকায় আসা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে যাওয়া এবং আত্মহত্যার ব্যাপারে স্বজনরা কিছুই জানে না বলে দাবি করে।

এদিকে পুলিশ নূরুল ইসলামের মৃত্যু আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও এর কারণ জানাতে পারেনি।

তেজগাঁও থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নূরুল ইসলাম হতাশায় ভুগছিলেন। স্বজনরা বলছে, তিনি লুকাস মোড়ের কাছে এক আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমরা তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিই। সেখানে তিনি মারা যান। তাঁর হাতে একটি ওষুধের বোতল ছিল। তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন।’

কী কারণে এবং কিভাবে আত্মহত্যা করেছেন জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত নই। ময়নাতদন্তে জানা যাবে। বোতলাটা তাঁর ওষুধেরও হতে পারে।’

পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে প্রাথমিক তদন্তের সূত্রে ওই মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর কারণ ‘কীটনাশক পানে আত্মহত্যা’ উল্লেখ করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন তেজগাঁও থানার এসআই আবদুল্লাহ আল মামুন শাহ। তিনি লিখেছেন, ‘মৃতের মৃত্যুর প্রমাণপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি মৃত্যুর আগে কীটনাশক সেবন করেছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, তিনি পারিবারিক, ব্যক্তিগত ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক কারণে মানসিকভাবে হতাশা ও বিষাদগ্রস্ত হয়ে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছেন।’

এদিকে ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে মৃতের ছেলে লেলিন খান বলেন, ‘আমার বাবার বড় কোনো সমস্যা ছিল না। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেতেন। তবে সম্প্রতি তাঁর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলছিলেন। এটা নিয়ে একটু হতাশা ছিল।’

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গতকাল বিষপানের আগে নূরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে নির্ধারিত বাক্সে একটি আবেদন জমা দেন। ওই আবেদনটির অনুলিপি পুলিশ পেয়েছে। সেখানে নূরুল ইসলাম দুটি বিষয়ে অভিযোগ করে প্রতিকার চেয়েছেন। একটি হচ্ছে, তিনি স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে ১৪ হাজার টাকা পান, যা আদায় করতে পারছিলেন না। অন্যটি হলো, তাঁর মেয়েকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করা হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে স্বজনরা কিছুই জানায়নি।

মন্তব্য