kalerkantho


চুরি করে আঙুর খাওয়ায় শিশু রিয়াদকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা ও কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ফিলের দোকান থেকে কয়েকটি আঙুর চুরি করে খাওয়ার অপরাধে পিটিয়ে গলা টিপে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়েছে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রিয়াদ হোসেনকে (৯)। সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া ফল ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন এ কথা জানিয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার ৬ নম্বর আমলি আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. ফাহদ বিন আমিন চৌধুরীর কাছে ১৬৪ ধারায় এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আলমগীর।

কুমিল্লার পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান লিটন জানান, রিয়াদ হত্যা মামলায় আলমগীর হোসেন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মনোহরগঞ্জ থানার এসআই মোজাম্মেল হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আলমগীর বলেছে, সে মনোহরগঞ্জ বাজারের সওদাগর মার্কেটের সামনের ফল দোকানের ব্যবসায়ী। গত সোমবার রাতে রিয়াদ তার ফল দোকান থেকে আঙুর চুরি করে খায়। পরে সে আঙুর খাওয়ার বিষয়টি দেখতে পেয়ে তার দোকানের কর্মচারী ফারুককে বলে, ‘দোকানের ফল চুরি করে খাচ্ছে, তুই দেখস না?’ এ কথা শুনেই কর্মচারী ফারুক রিয়াদকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে।

এসআই মোজাম্মেল হোসেন জানান, একপর্যায়ে আলমগীর, ফারুক এবং পাশের চায়ের দোকানের কর্মচারী আজিম উদ্দিন ও মিজান রিয়াদকে বাজারের পূর্ব পাশের রাজের গড় এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে মারধরের পর বালুর একটি স্তূপের মধ্যে রিয়াদকে চাপা দেয়। পরে ফারুক একটি ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং আজিম গলা চেপে ধরে। এতে রিয়াদ মারা গেলে তাকে একটি বস্তার মধ্যে ভরে পাশের একটি দোকানের পেছনে ফেলে রাখা হয়।

 

মনোহরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাদেকুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, গত সোমবার রাতে রিয়াদকে মারধর করার এ দৃশ্য দেখেছিলেন বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আবদুল খালেক। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে আলমগীর ও ফারুককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার বিকেলে আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত আলমগীরকে দুই দিনের রিমান্ডে এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ফারুককে (১৪) চট্টগ্রামের কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের এক দিনের মধ্যেই আলমগীর রিয়াদ হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে। তবে আদালতে থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে আলমগীর হোসেন চিত্কার করে বলতে থাকে, তাকে সারা রাত পিটিয়ে পুলিশের কথামতো স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করে সে।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাতে নিখোঁজ হয়েছিল উপজেলার দিশাবন্দ গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে রিয়াদ। মঙ্গলবার সকালে মনোহরগঞ্জ বাজারের পূর্ব পাশে রাজের গড় এলাকায় একটি পরিত্যক্ত দোকানের পেছন থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।


মন্তব্য